মঙ্গলবার, জুলাই ৭, ২০২৬

মনপুরায় পল্লী জীবিকায়ন প্রকল্পে ১ কোটি ৫৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত

মহিব্বুল্যাহ ইলিয়াছ মনপুরা (ভোলা) প্রতিনিধি:

 

ভোলার মনপুরা উপজেলার পল্লী জীবিকায়ন প্রকল্পের (বিআরডিবি) উপজেলা কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে মোট ১ কোটি ৫৭ লাখ ২২ হাজার ৭২৮ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের পর বিভাগীয় তদন্তে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে ভোলা জেলা কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

 

জানা গেছে, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন ও ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে বাস্তবায়িত পল্লী জীবিকায়ন প্রকল্পে দায়িত্ব পালনকালে মো. কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে লালমোহন ও মনপুরা উপজেলার বিভিন্ন সমিতি ও পল্লী উন্নয়ন দলের সদস্যদের ঋণের অর্থ, আদায়কৃত কিস্তি এবং প্রকল্পের হিসাবভুক্ত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে।

অভিযোগ অনুযায়ী, লালমোহন উপজেলায় কর্মরত অবস্থায় ইসলামপুর, দক্ষিণ তারাগঞ্জ, মঙ্গল সিকদার, রায়চাঁদ, মধ্য তারাগঞ্জ খানবাড়ি, রহিমপুর, ধলিগৌরনগর জেবলরাজ, বগিরচর, চরকালাচাঁদ, ভাঙ্গাপুল, দক্ষিণ বালুচর ও পূর্ব কিশোরগঞ্জ মৃধাপাড়া বিত্তিহীন মহিলা সমবায় সমিতিসহ বিভিন্ন সমিতি থেকে মোট ৩৭ লাখ ২৮ হাজার ৭০০ টাকা আত্মসাৎ করা হয়।

পরে মনপুরা উপজেলায় বদলি হয়ে আসার পর মাঠকর্মী পবিত্র কুমার সরকারের সহযোগিতায় বিভিন্ন সমিতি ও পল্লী উন্নয়ন দল থেকে প্রায় ৬১ লাখ ৭৬ হাজার ৮০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। একই সঙ্গে আয় অপেক্ষা অতিরিক্ত ব্যয় দেখিয়ে আরও ৫৮ লাখ ১৭ হাজার ৯৪৮ টাকা আত্মসাতের অভিযোগও তদন্তে উঠে এসেছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, আন্দিরপাড় তুলাতলী, চরযতীন কলেজপাড়া, চরফয়জুদ্দিন বাঁধেরহাট, দক্ষিণ সাকুচিয়া সিরাজগঞ্জ, কাউয়ারটেক, চর গোয়ালিয়া সোনাপুর উত্তরপাড়া, সোনারচর উত্তরপাড়া, কুলাগাজীর তালুক, হাজীরচরসহ একাধিক এমবিএসএস ও পল্লী উন্নয়ন দল থেকে বিভিন্ন সময়ে ঋণের অর্থ ও আদায়কৃত কিস্তির টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

এছাড়া ২৭ জন ব্যক্তির নামে ৩৬ লাখ ২০ হাজার ৬৫০ টাকার ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই ঋণ মনপুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমানত উল্যাহ আলমগীরকে দেওয়া হয়েছে বলে প্রমাণ মিলেছে। একই ঘটনায় মাঠকর্মী পবিত্র কুমারের মাধ্যমে ১৭ লাখ ৩৭ হাজার ৭১৫ টাকা আত্মসাতের তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। মাঠকর্মী পবিত্র কুমার সরকার ২০২৫ সালের জুন মাসে মনপুরা থেকে বদলি হয়ে যান। তার দায়িত্বাধীন ব্লকের বেশ কিছু ঋণ এখনও অনাদায়ী রয়েছে। সেই বিষয়টিকে কেন্দ্র করেই এসব অভিযোগ আনা হয়েছে।”

মনপুরা উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা (বিআরডিবি) মাহে আলম বলেন, “কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। তদন্ত শেষে তাকে ভোলা জেলা কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।”

লালমোহন উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা (বিআরডিবি) মিজ রীমা আক্তার বলেন, “তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।”

ভোলা জেলা পল্লী উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক আজাদুর রহমান বলেন, “অভিযোগের বিষয়ে বিভাগীয় তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে জেলা কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। অধিকতর তদন্ত শেষে বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এ ঘটনায় পল্লী জীবিকায়ন প্রকল্পের উপকারভোগীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

আরো পড়ুন

মহিপুরকে প্রশাসনিক উপজেলা করতে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়

মাহতাব হাওলাদার, মহিপুর প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর মহিপুর পুলিশি থানাকে পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক উপজেলা হিসেবে ঘোষণার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *