রবিবার, জুলাই ২৬, ২০২৬

ত্রিশ গোডাউনে নৌকা-ট্রলার থেকে চাঁদাবাজি: আদালতের নির্দেশে মামলা, গ্রেপ্তার ১ 

স্টাফ রিপোর্টার 
বরিশাল নগরীর কীর্তনখোলা নদীর তীরবর্তী ত্রিশ গোডাউন পর্যটন এলাকায় নৌকা ও ট্রলার থেকে অবৈধভাবে চাঁদা আদায়ের ঘটনায় আদালতের নির্দেশে মামলা দায়েরের পর মুল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত হলো- সাঈম । তিনি ঐ এলাকার আনোয়ারুলের ছেলে। গত বুধবার বিকেল ৩টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ জুলাই সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটের দিকে বরিশালের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও জাস্টিস অব দ্য পিস এস এম শরিয়ত উল্লাহ ত্রিশ গোডাউন এলাকায় ঘুরতে যান। এ সময় তিনি নিজ চোখে পর্যটকবাহী নৌকা ও ট্রলারের মাঝিদের কাছ থেকে অবৈধভাবে চাঁদা আদায়ের ঘটনা প্রত্যক্ষ করেন। পরে তিনি গোপনে ঘটনার একটি ভিডিও ধারণ করেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত একাধিক মাঝিকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা জানান, সাঈম নামে এক ব্যক্তি তার প্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রতিটি নৌকা ও ট্রলার থেকে ৫০ টাকা করে চাঁদা আদায় করেন। দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় নৌকা চালানো এক মাঝি জানান, আগে কখনও এ ধরনের চাঁদা দিতে হয়নি। তবে গত এক থেকে দেড় বছর ধরে তারা নিয়মিত চাঁদা দিতে বাধ্য হচ্ছেন। অন্য মাঝিরাও একই ধরনের অভিযোগ করেন।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ত্রিশ গোডাউন বরিশালের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। প্রতিদিন বিভিন্ন জেলা থেকে অসংখ্য পর্যটক কীর্তনখোলা নদীতে নৌভ্রমণের জন্য সেখানে আসেন। কিন্তু মাঝিদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের কারণে একদিকে তারা হয়রানির শিকার হচ্ছেন, অন্যদিকে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে পর্যটকদেরও। ঘটনাটি আদালতের নজরে এলে জাস্টিস অব দ্য পিস এটিকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করেন। পরে দণ্ডবিধির ৩৮৫ ধারা এবং আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২-এর ৪ ও ৫ ধারায় নিয়মিত মামলা দায়েরের জন্য কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তদন্ত করে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সব চাঁদাবাজের নাম-পরিচয় আদালতে দাখিলের নির্দেশও দেওয়া হয়। আদালতের আদেশের পর কোতোয়ালি মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. রাজিব হোসেন বাদী হয়ে সাঈমসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতয়ালী মডেল থানার এসআই কাজী শাওন জানান , মামলার পরিপ্রেক্ষিতে অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি সাঈমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে বিজ্ঞ আদালতে হাজির করলে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করা হয়। এছাড়া মামলাটির বিষয়ে যথাযথ তদন্ত চলমান রয়েছে।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত সাঈম ত্রিশ গোডাউন এলাকায় কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে জড়িত। তার বিরুদ্ধে হামলা, ভাঙচুর, মারধরসহ একাধিক অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে বলে দাবি করেন তারা। স্থানীয়দের ভাষ্য, এসব কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকায় একাধিকবার উত্তেজনাকর পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত সাঈমের বক্তব্য জানা যায়নি।
বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: মামুম উল ইসলাম জানান, বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মামলা গ্রহণ ও মুল আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

আরো পড়ুন

নগরীর এ.কে স্কুলের শিক্ষার্থী রাহাত চৌধুরী অ্যাস্ট্রো অলিম্পিয়াডে জাতীয় পর্যায়ে লড়বে

মশিউর রহমানঃ নগরীর আছমত আলী খান (এ.কে) ইনস্টিটিউশন এর দশম শ্রেণী শিক্ষার্থী মোঃ রাহাত চৌধুরী,  …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *