বৃহস্পতিবার, জুলাই ৩০, ২০২৬

বরিশাল সিভিল সার্জনের অপসারণ দাবিতে ১৭ জুলাই যোদ্ধার অবস্থান

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশালের নবনিযুক্ত সিভিল সার্জন ডা. মনিরুজ্জামানের অপসারণের দাবিতে টানা পঞ্চম দিনের মতো আন্দোলন কর্মসূচি পালন করেছেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের জুলাই যোদ্ধারা। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে বরিশাল জেলা প্রশাসক (ডিসি) কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা। এ সময় আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে সিভিল সার্জনের পদত্যাগ ও অপসারণের দাবি জানান।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ডা. মনিরুজ্জামান অতীতে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাদের দাবি, এমন একজন কর্মকর্তাকে বরিশালের মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলার সিভিল সার্জনের দায়িত্ব দেওয়ায় স্বাস্থ্যখাতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। এ কারণে তাকে অবিলম্বে অপসারণ করে একজন সৎ ও যোগ্য কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

এর আগে আন্দোলনের চতুর্থ দিনে (২৯ জুলাই) বরিশাল জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের সামনে সংবাদ সম্মেলন করে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম ঘোষণা করেন আন্দোলনের সমন্বয়কারীরা। ওই সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক সাব্বির হোসেন অভিযোগ করেন, ডা. মনিরুজ্জামানকে সিভিল সার্জন হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার মাধ্যমে জেলার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

সাব্বির হোসেন বলেন, ডা. মনিরুজ্জামান গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন কর্মরত থাকাকালে তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। তিনি দাবি করেন, শুধু গৌরনদী নয়, আগৈলঝাড়াসহ আশপাশের এলাকাতেও এসব অভিযোগ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় স্থানীয়রা ঝাড়ু মিছিল, মানববন্ধন এবং সড়ক অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করেছিলেন। একপর্যায়ে তাকে ওএসডি করা হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে সাব্বির হোসেন আরও বলেন, নির্ধারিত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় তারা নতুন কর্মসূচি হিসেবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাওয়ের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

আন্দোলনের আরেক সমন্বয়ক লাবণ্য রহমান বলেন, “এটি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে নয়; বরিশালের মানুষের নিরাপদ ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার দাবিতে আমাদের এই আন্দোলন। জনগণের স্বার্থে আমরা এই কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছি।”

টানা পাঁচ দিন ধরে আন্দোলন চললেও অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা খুব বেশি বাড়েনি। গত ২৯ জুলাই অবস্থান কর্মসূচিতে প্রায় ১৫ জন অংশ নিলেও বৃহস্পতিবার সেই সংখ্যা বেড়ে ১৭ জনে দাঁড়ায়। সীমিত সংখ্যক আন্দোলনকারী নিয়ে কর্মসূচি পালিত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ মনে করছেন, আন্দোলনটি প্রত্যাশিত জনসম্পৃক্ততা অর্জন করতে পারেনি। আবার আন্দোলনকারীদের দাবি, সংখ্যার চেয়ে তাদের দাবির নৈতিক ভিত্তি এবং জনস্বার্থই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে, আন্দোলনের পঞ্চম দিনেও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বড় ধরনের কোনো বিঘ্ন ঘটেনি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হয়।

 

আরো পড়ুন

আমতলীতে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, পরিবারের দাবি পরিকল্পিত হত্যা

আবু জিহাদ, আমতলী : বরগুনার আমতলী উপজেলার আঠারগাছিয়া ইউনিয়নের ০৪ নং ওয়ার্ড গেরাবুনিয়া গ্রামে মোসা. …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *