স্টাফ রিপোর্টার: ব্যাংক অ্যাকাউন্টে দুই দফায় ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা দেয়ার কয়েক মাস পরই ভাইয়ের মৃত্যুর পর বোনের দেয়া অর্থ দিতে অস্বীকার করেন মরহুমের ওয়ারিশগণ। এমন অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বরিশাল মুলাদী উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের বানিমর্দন গ্রামের মো. স্বপন মৃধার স্ত্রী মোসা. সাহেরা বেগম। সোমবার ( ১৭ আগষ্ট) দুপুরে বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। অন্যদিকে, সংবাদ সম্মেলনকারী সাহেরা হলেন- পটুয়াখালী কুয়াকাটা পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের পানজু পাড়া গ্রামের মৃত বাহার আলী তালুকদারের মেয়ে । তিনি তার প্রাপ্য অর্থ ও স্বর্ণালংকার ফেরত পেতে প্রয়োজনে বিষয়টি সুষ্ঠু সমাধানে সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে ন্যায্য বিচার চেয়েছেন।
তিনি বলেন, ভাই-বোনদের মধ্যে আমি বড় এবং আমার ৪ মেয়ে। আমরা ২ ভাই ২ বোন। এরমধ্যে ভাই খলিলুর রহমান তালুকদার প্রায় ২ মাস পূর্বে ২ ছেলে ও ২ মেয়ে রেখে মৃত্যূবরণ করেন। চলতি বছরের ১৫ জুন বিকেলে কুয়াকাটা মুরগীর বাজার সংলগ্ন ‘মায়ের দোয়া’ ভাতের হোটেলের মধ্যে প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকা অবস্থায় খলিলুরকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরের দিন অর্থাৎ ১৬ জুন রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর কারণে হিসেবে ব্যবস্থাপত্রে উল্লেখ করেন, বিষপানে খলিলুরের মৃত্যু হয়েছে।
ব্যবসার প্রয়োজনে মরহুম ভাই খলিলুর রহমান তালুকদার বিভিন্ন সময় আমার কাছ থেকে টাকা-পয়সা নিতো। অধিকাংশ হিসাব মৌখিক থাকলেও ভাই জীবিত থাকা অবস্থায় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি এর মাধ্যমে চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারী ৪ লাখ ২৮০ টাকা এবং ২৩ ফেব্রুয়ারী ৭০ হাজার ৭০ টাকা নেয়। এছাড়া নগদ অর্থ সহ স্বর্ণালংকারের লেনদেন রয়েছে। ভাইয়ের মৃত্যুর পর তার বাবার ঋণ পরিশোধ করতে চায় না আমার ভাইয়ের ছেলেরা।
অথচ, মৃত্যুর এক দিন আগেও ভাই আমাকে মোবাইল ফোনে বলেছিল, “আপা, আপনি আসেন, আপনার সঙ্গে হিসাব করে আপনার টাকাগুলোর ফয়সালা করে দেই।” তখন আমি তাকে বলি, আমি বরিশাল মুলাদী আছি, দুই দিন পর কুয়াকাটা যাবো। তখন ভাই আমাকে বলেন, ” আমার হোটেলের নিচের ড্রয়ারে আপনার টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালংকার রাখা আছে। আপনি এসে সেগুলো নিয়ে যাবেন।” কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, আমার সঙ্গে উক্ত কথোপকথনের পরদিনই আমার ভাই মৃত্যুবরণ করেন।
পরে ভাইয়ের লাশ নিয়ে যাওয়ার সময় আমার চাচতো ভাই মোঃ আমির তালুকদারকে উক্ত বিষয়টি জানালে তিনি মরহুম ভাইয়ের স্ত্রী নাসিমা বেগম ও তার ছেলে মোঃ রিমন তালুকদার ও মোঃ রিয়াজ তালুকদার মিলে পরস্পর যোগসাজশে হোটেলের নিচের ড্রয়ারে রাখা আমার টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে কুয়াকাটা পৌরসভার বিএনপি অফিস কার্যালয়ে একতরফা সালিশ-মীমাংসা হওয়ায় আমি চলতি মাসের ১২ আগষ্ট তারিখে পটুয়াখালী মহিপুর থানা ওসির বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। ওই সালিশ-মীমাংসা থেকে বের হবার পরই আমি ও আমার দুই মেয়ের উপর হামলা চালায় ভাইয়ের ছেলেরা ও মেয়ে জামাইরা।
Daily Bangladesh Bani বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের দৈনিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে, সমাজের অন্ধকার দিকগুলো উন্মোচন করে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকারের প্রচার করি।