সোমবার, আগস্ট ১৭, ২০২৬

মৌসুমি নিম্নচাপে উপকূলে মুষলধারে বৃষ্টি, পায়রা বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

মাহতাব হাওলাদার, মহিপুর প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপকূলে মৌসুমি নিম্নচাপের প্রভাবে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) সকাল ৮টা থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় টানা বৃষ্টিতে জনজীবনে দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী ও দিনমজুর মানুষ পড়েছেন বিপাকে।
এদিকে বৈরী আবহাওয়ার প্রভাবে কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর উত্তাল হয়ে উঠেছে। সাগরে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় ঢেউ। সেগুলো আছড়ে পড়ছে কুয়াকাটা সৈকতের তীরে। উপকূলীয় এলাকায় যেকোনো সময় দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ সতর্কবার্তা অনুযায়ী, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে মৌসুমি নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি আরও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। এর প্রভাবে দেশের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে পায়রা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছধরা নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
পটুয়াখালী জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবা সুখি জানান, নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টিপাত ও ঝোড়ো হাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে। সাগর উত্তাল থাকায় মাছধরা নৌকা ও ট্রলারগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে টানা বৃষ্টি ও সাগর উত্তাল থাকায় মহিপুর-আলিপুরের মৎস্য ব্যবসা ও মাছ অবতরণ কার্যক্রমেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সমুদ্রে থাকা জেলেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
মহিপুর মৎস্য আড়ৎ মালিক সমিতির সহ-সভাপতি আলহাজ্ব রাজু আহমেদ রাজা বলেন, “নিম্নচাপের কারণে সাগর উত্তাল হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় জেলেদের নিরাপত্তাই আমাদের প্রথম চিন্তা। যারা এখনো সাগরে আছেন, তাঁদের আবহাওয়ার পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে আসা উচিত। বৈরী আবহাওয়া কেটে না যাওয়া পর্যন্ত নতুন করে কাউকে গভীর সাগরে যাওয়ার ঝুঁকি না নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে জেলেরা আবার স্বাভাবিকভাবে মাছ ধরতে যেতে পারবেন।”
টানা বৃষ্টিতে কলাপাড়া উপজেলার বিভিন্ন নিচু এলাকায় পানি জমার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি কাঁচা সড়ক ও মাটির পথে চলাচলে দুর্ভোগ বেড়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয় বাসিন্দা, নৌযান ও জেলেদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরো পড়ুন

বাকেরগঞ্জে চরামদ্দি–কাটাদিয়া সড়কের বেহাল দশা, চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসী

বাকেরগঞ্জ প্রতিনিধি : বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার ১ নম্বর চরামদ্দি ইউনিয়নের চরামদ্দি বাজার থেকে কাটাদিয়া বাজারের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *