জাকির ফরাজীঃপিরোজপুরে কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না ডেঙ্গুর প্রকোপ। চলতি বছরের গত আট মাসে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ১ হাজার ৩৮১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন, যা বরিশাল বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ। এ সময়ে ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ হাজার ৩১৩ জন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও ৬৭ জন।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৬ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে ১৬ জন, নাজিরপুরে ৯, নেছারাবাদে ৮, কাউখালীতে ২, ভান্ডারিয়ায় ৩১ এবং মঠবাড়িয়ায় একজন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ইন্দুরকানিতে বর্তমানে কোনো ডেঙ্গু রোগী ভর্তি নেই।
হাসপাতালভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত আট মাসে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন পিরোজপুর সদর হাসপাতালে—৬৩৮ জন। এছাড়া নাজিরপুরে ৮৩, নেছারাবাদে ২২৫, কাউখালীতে ১০০, ভান্ডারিয়ায় ২৭৫ এবং মঠবাড়িয়ায় ৬০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন।
ডেঙ্গু রোগীর চাপ বাড়ায় পিরোজপুর সদর হাসপাতালে সাধারণ রোগী ও স্বজনদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে জায়গা সংকট থাকায় ডেঙ্গু ও সাধারণ রোগীদের কাছাকাছি অবস্থান করতে হচ্ছে। এতে সংক্রমণ নিয়ে তাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তারা ডেঙ্গু রোগীদের জন্য পৃথক ওয়ার্ডের দাবি জানিয়েছেন।
মরিয়ম বেগম, বাবুল আক্তার ও রহিনা বেগমসহ কয়েকজন রোগী ও স্বজন বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা না থাকায় সাধারণ রোগীদেরও উদ্বেগের মধ্যে থাকতে হচ্ছে। দ্রুত পৃথক ওয়ার্ড চালুর দাবি জানান তারা।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার আরিফুর হাসান জানান, এ বছর ডেঙ্গু রোগীর চাপ কমছে না। একজন রোগীর চিকিৎসায় গড়ে পাঁচ থেকে ছয় দিন সময় লাগছে। এর মধ্যেই প্রতিদিন নতুন রোগী ভর্তি হওয়ায় হাসপাতালগুলোতে চাপ বাড়ছে।
তিনি জানান, ১০০ শয্যার পিরোজপুর সদর হাসপাতালে বর্তমানে রোগী ভর্তি রয়েছে প্রায় ৩৫০ জন। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে নিয়মিত মশারি ব্যবহার, বাড়িঘর ও আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং কোথাও পানি জমতে না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে শুধু চিকিৎসা নয়, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করাও জরুরি। সম্প্রতি প্রজননস্থল শনাক্তে আইইডিসিআরের একটি দল পিরোজপুরে কাজ করেছে। এ সময় সুপারি ও নারিকেল গাছের গোড়া এবং নির্মাণাধীন ভবনে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার প্রজননস্থল শনাক্ত করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব প্রজননস্থল দ্রুত ধ্বংসের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে।
Daily Bangladesh Bani বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের দৈনিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে, সমাজের অন্ধকার দিকগুলো উন্মোচন করে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকারের প্রচার করি।