মঙ্গলবার, আগস্ট ১৮, ২০২৬

সাগরে বিলীন হওয়ার পথে কুয়াকাটার ট্যুরিস্ট পুলিশ বক্স

মাহতাব হাওলাদার, মহিপুর প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর পর্যটননগরী কুয়াকাটায় অব্যাহত সমুদ্রভাঙনে এবার বিলীন হওয়ার পথে জিরো পয়েন্টসংলগ্ন ট্যুরিস্ট পুলিশ বক্স। উত্তাল বঙ্গোপসাগরের ঢেউ ও জোয়ারের পানিতে সৈকতের বালু সরে গিয়ে স্থাপনাটির আশপাশের মাটি ধসে পড়ছে। এতে যেকোনো সময় গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনাটি সাগরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বছরের পর বছর ধরে কুয়াকাটা সৈকতে ভাঙন চলছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ভাঙনের তীব্রতা আরও বেড়েছে। পূর্ণিমার জোয়ার, বৈরী আবহাওয়া ও সাগরের প্রবল ঢেউয়ে সৈকতের বিস্তীর্ণ অংশের বালু সরে যাচ্ছে। এরই মধ্যে জিরো পয়েন্টসংলগ্ন সৈকত জামে মসজিদ, শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দির, ট্যুরিস্ট পুলিশ বক্সসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
শুধু একটি পুলিশ বক্স নয়, দীর্ঘদিনের ভাঙনে কুয়াকাটার উপকূলীয় জনপদের চিত্রও বদলে যাচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রতি বছর সাগরের ঢেউয়ে সৈকতসংলগ্ন বহু ঘরবাড়ি, দোকানপাট, গাছপালা ও বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত কিংবা বিলীন হচ্ছে। গত প্রায় তিন দশকের ভাঙনে কুয়াকাটার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক স্থাপনা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অংশ হারিয়ে গেছে।
এর আগে ২০২৫ সালেও জোয়ারের প্রবল ঢেউয়ে কুয়াকাটার নির্মাণাধীন মেরিন ড্রাইভ সড়কের বিভিন্ন অংশ ধসে পড়েছিল। তখন সড়কের আশপাশের পুলিশ বক্স, মার্কেটসহ কয়েকটি স্থাপনা ঝুঁকিতে পড়ে এবং পর্যটকদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
এদিকে চলতি বছরও কুয়াকাটা সৈকতের ভাঙন নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। শুধু সৈকত নয়, শহররক্ষা বাঁধের বিভিন্ন অংশের কংক্রিটের ব্লকও সাগরের ঢেউয়ে দেবে গেছে ও স্থানচ্যুত হয়েছে। এতে উপকূলীয় এলাকা আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটন ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা না নিলে কুয়াকাটার পর্যটন অবকাঠামো ও উপকূলীয় জনপদ আরও বড় ক্ষতির মুখে পড়বে। তাঁদের দাবি, বালুক্ষয় রোধে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমুদ্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনাগুলো রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে।
কুয়াকাটার সৌন্দর্য ও পর্যটন সম্ভাবনা রক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে নানা উদ্যোগের কথা বলা হলেও স্থায়ী সমাধান এখনো অধরা। ফলে একদিকে সাগরের ঢেউ, অন্যদিকে ভাঙনের ক্ষত—সব মিলিয়ে অস্তিত্ব সংকটে পড়ছে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই পর্যটনকেন্দ্র।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—আজ ট্যুরিস্ট পুলিশ বক্স, কাল কার ঘর? এভাবে আর কত স্থাপনা ও কত মানুষের বসতভিটা সাগরের অতলে হারিয়ে যাবে?
তাই কুয়াকাটাকে রক্ষায় এখনই কার্যকর, সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আরো পড়ুন

কুয়াকাটায় ভুয়া ওয়ারিশ সেজে জমি বিক্রি ও দখলের অভিযোগ

মহিপুর প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর কুয়াকাটার ফাঁসিপাড়া এলাকায় ভুয়া ওয়ারিশ সেজে জমি বিক্রি ও দখলের অভিযোগ উঠেছে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *