শুক্রবার, আগস্ট ২১, ২০২৬

উজিরপুরে সড়ক নির্মানে অনিয়মের ঘটনা ধামাচাপা দিতে প্রকৌশলী সুব্রতর ‘মিডিয়া ম্যানেজ’ মিশন!

উজিরপুর প্রতিনিধি: নির্মাণের দুই মাস না যেতেই বেহাল হয়ে পড়েছে বরিশালের উজিরপুর উপজেলার হারতা ইউনিয়নের নয়াকান্দি ফুটব্রিজ থেকে দক্ষিণ সাতলা পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার সড়ক। প্রায় ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়কটির বিভিন্ন অংশে পিচ-পাথর উঠে গেছে। সংবাদটি বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হলে ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও উজিরপুরের বেশ কয়েকজন সাংবাদিককে নিয়ে প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের অফিসে ‘মিডিয়া ম্যানেজ’ ও সড়কের অনিয়ম ধামাচাপা দিয়ে ঘটনা ভিন্ন খাতে নেওয়ার জন্য মোটা অঙ্কের লেনদেন হয় বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
এরপর থেকে ওই সড়কের ত্রুটিপূর্ণ অংশ বাদ দিয়ে ভালো রাস্তার ছবি ব্যবহার করে ঠিকাদারের পক্ষে সাফাই গাইছে একটি চক্র। প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের ভূমিকা নিয়েও জনমনে নানা প্রশ্ন উঠেছে। যেখানে তিনি দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবেন, সেখানে তিনি নিজেই ভক্ষকের ভূমিকায় রয়েছেন কি না—এমন প্রশ্নও উঠছে। এ নিয়ে নির্মাণকাজের মান ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, নয়াকান্দি ফুটব্রিজ থেকে দক্ষিণ সাতলা পর্যন্ত সড়কটির নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৭৪ লাখ ৯৯ হাজার টাকা। কাজটি করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স তাসমিয়া এন্টারপ্রাইজ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নির্মাণকাজে অনিয়ম ও যথাযথ তদারকির অভাবেই নির্মাণের অল্প সময়ের মধ্যে সড়কটির বিভিন্ন স্থানে পিচ-পাথর উঠে গেছে। কোথাও কোথাও সড়কের প্রস্থও কমে গেছে। তাদের দাবি, পুরোনো সড়কের প্রস্থের সঙ্গে নতুন সড়কের প্রস্থ সরেজমিন মেপে দেখা হোক। একই সঙ্গে সড়কের পুরুত্ব, ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর মান ও কাজের পরিমাণ যাচাই করে প্রয়োজনীয় তদন্ত করা হোক।
এ ঘটনায় উজিরপুর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের তদারকি ও দায়িত্ব পালনের বিষয় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, নির্মাণকাজ চলাকালে যথাযথভাবে তদারকি করা হলে এত দ্রুত সড়কটির বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা নয়।
তবে প্রকৌশলী সুব্রত রায় অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বৃষ্টির কারণে সড়কের কয়েকটি স্থানে পানি জমে ক্ষতি হয়েছে। বৃষ্টি কমে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলো মেরামত করা হবে।
স্থানীয়রা বলছেন, নির্মাণের মাত্র দুই মাসের মধ্যে পিচ-পাথর উঠে যাওয়ার কারণ হিসেবে শুধু বৃষ্টিকে দায়ী না করে বিষয়টি কারিগরি পরীক্ষার মাধ্যমে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাঁদের মতে, সড়কের প্রস্থ ও পুরুত্ব মাপার পাশাপাশি নির্মাণসামগ্রীর মান, কাজের পরিমাণ এবং প্রকল্প-সংক্রান্ত নথিপত্র যাচাই করলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে।
তাঁদের দাবি, তদন্তে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বা সংশ্লিষ্টদের অনিয়ম কিংবা দায়িত্বে গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে নিম্নমানের কাজ হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের ব্যয়ে সড়কটি মানসম্মতভাবে পুনর্নির্মাণেরও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

আরো পড়ুন

বরিশালে ডেঙ্গু প্রতিরোধে রহমাতুল্লাহ’র নেতৃত্বে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

নিজেস্ব প্রতিবেদকঃ ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও এডিস মশার বিস্তার রোধে জনসচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন বরিশাল গড়ার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *