শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

বর্ষার বিদায়ে ববি যেন এক নীরব ক্যানভাস

ঋতুর পালাবদলে বদলে যায় প্রকৃতির রূপ। বর্ষা তার বিদায়কালে প্রকৃতিকে কয়েক পশলা ঠান্ডা বৃষ্টিতে তৃপ্ত করে দিয়ে যায়। শরতের আগমনের সময়ও ঘনিয়ে এসেছে।

আকাশের একপাশে ঘন কালো মেঘ, অন্যপাশে অস্তগামী সূর্যের ম্লান আলো। মাঝখানে স্থির জলরাশি, আর সেই জলে উল্টো হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ক্যাম্পাসের ভবন ও গাছপালা। বর্ষার ববি যেন প্রকৃতি আর স্থাপত্যের এক নীরব ক্যানভাস।

কালো মেঘে ঢেকে আছে আকাশ। কিছুক্ষণ আগেও যে আকাশ বৃষ্টির শব্দে মুখর ছিল, এখন সেখানে নেমেছে এক অদ্ভুত নীরবতা। ভেজা মাটি, ঠান্ডা বাতাস, সবুজ ঘাস আর গাছের পাতার মিশ্র গন্ধে চারপাশে তৈরি হয়েছে এক অন্যরকম আবহ। বৃষ্টিস্নাত প্রকৃতির এই নীরব সৌন্দর্যে যেন মুহূর্তেই বদলে গেছে চেনা ক্যাম্পাসের রূপ।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে বর্ষার আগমন যেন প্রকৃতির নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা। বৃষ্টির জলে ধুয়ে-মুছে আরও সতেজ হয়ে ওঠে ক্যাম্পাসের সবুজ। বর্ষার বিদায়ীক্ষণেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। জলাশয়ের শান্ত জলে প্রতিফলিত হয় চারপাশের গাছপালা ও ভবন। পাশেই ভৃঙ্গরাজের হলুদ পাপড়ি যেন জলাশয়ের সবুজ-জলের বুকে ছড়িয়ে দেয় এক টুকরো রোদ্দুর। কখনো ঘন মেঘের ছায়ায়, কখনোবা মেঘের ফাঁক গলে আসা শেষ বিকেলের আলোয় বদলে যায় সেই দৃশ্যের রং। চেনা ববিই তখন হয়ে ওঠে এক অন্যরকম, আরও নান্দনিক ক্যাম্পাস।

ক্যাম্পাসের রাস্তাগুলোতে ববির সবুজ বাসগুলোকে নীরবে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। বৃষ্টি এক পশলা জলে চারপাশ ভিজিয়ে দিয়ে চলে গেলেও বাসগুলো ঠিকই ছুটে চলে গন্তব্যের পথে; তাদের যেন একদণ্ড দাঁড়িয়ে থাকারও সময় নেই। পাঠ শেষ করে শিক্ষার্থীরাও নিজ নিজ গন্তব্যে রওনা হয়ে পড়ে। চারদিকে তখন নানান রঙের ছাতার মেলা। প্রকৃতির সৌন্দর্যের সঙ্গে বর্ষায় এই দৃশ্যটি অতি সাধারণ, অথচ এক কথায় অসাধারণ।

দালানের ওপর দিয়ে সারাক্ষণ উড়ে বেড়ানো পাখিগুলোও ডানা ঝাপটে নিজেদের শুকিয়ে নেয়। কখনো কখনো লাল দালানটিতেই একটু জিরিয়ে নেয় তারা। এমন মনোরম পরিবেশে ববির লাইব্রেরিতে খুদে পড়ুয়াদের পড়ার গতি যেন আরও বেড়ে যায়। জানালা দিয়ে যতদূর সৌন্দর্য দেখা যায়, একপলক তা অবলোকন করে আবার মনোনিবেশ করে পাঠে। কিছু স্বপ্ন, কিছু প্রত্যাশা পূরণের আশায় কত চোখ নিবিষ্ট হয়ে থাকে বইয়ের পাতায়।

অন্যপ্রান্তের চত্বরগুলো আবার মেতে ওঠে চঞ্চল শিক্ষার্থীদের আড্ডায়। অট্টহাসি আর রোমাঞ্চকর গল্পে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। কেউ ছুটছে বাস ধরতে, কেউ ছাতা মাথায় হাঁটছে ভেজা পথে, কেউবা বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় মগ্ন—বর্ষার ববি যেন একই সঙ্গে ধারণ করে প্রকৃতির নীরবতা ও তারুণ্যের উচ্ছ্বাস।

এরই মধ্যে বাসগুলো একে একে ছুটে যায় গন্তব্যের পথে। সূর্য অস্তপ্রায়। আকাশের মেঘে মিশে যায় দিনের শেষ আলো। ধীরে ধীরে নেমে আসে সন্ধ্যা। মনে পড়ে যায় কাজী নজরুল ইসলামের সেই বর্ষাবিধুর পঙ্গক্তি—

“তুমি চলে যাবে দূরে,

ভাদরের নদী দুকূল ছাপায়ে কাঁদে ছলছল সুরে!”

এভাবেই প্রকৃতির স্নিগ্ধতায়, শিক্ষার্থীদের কোলাহলে আর এক পশলা বৃষ্টির স্মৃতি রেখে শেষ হয় ববির আরও একটি বৃষ্টিমুখর দিন।বর্ষার বিদায়ের এই মুহূর্তে ববির আকাশেও যেন মিশে থাকে তেমনই এক মায়াবী বিষণ্নতা।

আরো পড়ুন

‎বরিশালে বিমানবন্দরে এলাকায় ১০ কেজি গাঁজাসহ বাসযাত্রী গ্রেপ্তার

জাকির ফরাজীঃ বরিশাল নগরীর বিমানবন্দর থানা এলাকায় ১০ কেজি গাঁজাসহ মো. মনির হোসেন (৫০) নামে এক …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *