নিজস্ব প্রতিবেদক: বরিশাল নগরীর পুরান কয়লাঘাট আলীর গলি এলাকায় সাজানো ধর্ষণের মামলায় বের হয়ে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক তথ্য। ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়ে বাসা মালিকের ছেলেকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর প্রায় দুই মাস পার হলেও এখনো জেলহাজতে দিন কাটাচ্ছেন নির্দোষ যুবক রানা মোল্লা। এদিকে মামলা করার পর থেকে বাদী সোনালীকে টানা দুই মাস ঘরে তালাবন্ধ করে রেখে শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছে তার প্রতারক স্বামী রিয়াজ। শেষ পর্যন্ত সুযোগ বুঝে ঘর থেকে পালিয়ে এসে স্বামীর এই ভয়াবহ নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছেন বাদী সোনালী।
বাদী সোনালী জানান, মামলা দায়ের করার পর থেকেই গত দুই মাস ধরে তাকে ঘরে তালা মেরে আটকে রাখা হতো এবং প্রতিনিয়ত মারধর ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হতো। সোনালীর অভিযোগ, তার স্বামী রিয়াজ জানালার গ্লাস ও চারপাশ সব বন্ধ করে রাখত। জানালা খোলার চেষ্টা করলে বা আশেপাশের লোকজনকে ডাকার চেষ্টা করলে তাকে মারধর করা হতো।
একপর্যায়ে সুযোগ বুঝে ছিটকিনি খুলে বাসা থেকে পালিয়ে সোজা কোতোয়ালি থানায় যান সোনালী। তবে সেখানে প্রতিকার না পেয়ে তিনি সরাসরি বাড়ির মালিকের (আসামির) বাসায় গিয়ে উঠেছেন এবং সব সত্য প্রকাশ করেছেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের খবর দিয়ে নিজের সঙ্গে ঘটা অন্যায়ের বর্ণনা দেন।
সোনালী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বিয়ের সময় তিনি জানতেন না যে রিয়াজ একজন পেশাদার প্রতারক ও মাদকসেবী। বিয়ের পর তিনি জানতে পারেন রিয়াজের আগের একাধিক স্ত্রী রয়েছে; তিনি নিজে রিয়াজের তিন নম্বর স্ত্রী। রিয়াজ নিয়মিত গাজা, বাবা (ইয়াবা) ও মদ সেবন করে।
মূলত ২ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে স্বামী রিয়াজ তাকে প্রাণে মেরে ফেলা ও তালাকের ভয় দেখিয়ে বাসা মালিকের ছেলে রানা মোল্লার বিরুদ্ধে মিথ্যা ধর্ষণের মামলা করতে বাধ্য করেছিলেন। রিয়াজের আসল রূপ ও প্রতারণা বুঝতে পেরে সোনালী এখন অনতিবিলম্বে নির্দোষ রানার সাজা থেকে মুক্তি দাবি করছেন এবং প্রতারক স্বামী রিয়াজের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
গত ১৭ জুন থেকে প্রায় দুই মাস কারাবন্দি থাকা নির্দোষ রানা মোল্লার মা কমলা বেগম ও স্ত্রী জান্নাতুল বুশরা জানান, বাদী নিজেই যখন ষড়যন্ত্র, বন্দিদশা ও নির্যাতনের কথা স্বীকার করে রানা মোল্লাকে সম্পূর্ণ নির্দোষ বলেছেন, তখন আর কোনো আইনি বাধা থাকা উচিত নয়। অনতিবিলম্বে রানা মোল্লার নিঃশর্ত মুক্তি এবং মূল ষড়যন্ত্রকারী ও অত্যাচারী রিয়াজকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোড় দাবি জানান ভুক্তভোগী পরিবার।
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার্স ইনচার্জ আল মামুন জানান, বাদীর স্বীকারোক্তিতে মামলা নিয়েছি, এখন আদালতের বিষয় ,
Daily Bangladesh Bani বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের দৈনিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে, সমাজের অন্ধকার দিকগুলো উন্মোচন করে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকারের প্রচার করি।