শনিবার, সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬

র‍্যাব-৮ এর অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত দুই পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বরিশালে পর্নোগ্রাফি মামলায় সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এবং ডাকাতি, অস্ত্র ও মাদকসহ ১৪ মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি সরোয়ার হোসেন জনি ওরফে মনুকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৮। একই অভিযানে ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে বানারীপাড়া থানার মাদক মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মো. রায়হানকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

র‍্যাব-৮ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরিশাল জেলার উজিরপুর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে সরোয়ার হোসেন জনি ওরফে মনুকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি বরিশাল মহানগরীর কাউনিয়া থানার জোড় মসজিদ সংলগ্ন হাওলাদার সড়ক এলাকার মৃত মনোয়ার হোসেনের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, সরোয়ার হোসেন জনির বিরুদ্ধে ২০২০ সালে কাউনিয়া থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১২-এর ৮(১) ধারায় মামলা হয়। মামলাটির জিআর নম্বর ১৩/২০। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ রয়েছে। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

র‍্যাব আরও জানায়, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিলের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার অধিযাচনপত্রের পরিপ্রেক্ষিতে গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সরোয়ারের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ডাকাতি, অস্ত্র ও মাদকসহ মোট ১৪টি মামলার ওয়ারেন্ট রয়েছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

অন্যদিকে, দীর্ঘ ১২ বছর আত্মগোপনে থাকার পর গ্রেপ্তার হয়েছেন বরিশালের বানারীপাড়া থানার মাদক মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মো. রায়হান (২৪)। শুক্রবার বিকেলে র‍্যাব-৮ সদর কোম্পানি, বরিশাল ও র‍্যাব-১০ সিপিসি-১ যাত্রাবাড়ীর যৌথ অভিযানে ঢাকা মহানগরীর যাত্রাবাড়ী থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‍্যাব সূত্রে জানা গেছে, মো. রায়হান বানারীপাড়া উপজেলার ইলুহার এলাকার মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে। ২০১৪ সালে বানারীপাড়া থানায় তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়। মামলাটির দায়রা নম্বর ১০৬/১৪ এবং জিআর নম্বর ১৮/১৪ (হরিণটানা)।

মামলাটি আদালতে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় রায়হানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল।

র‍্যাব জানায়, গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রায়হানের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে র‍্যাব-৮ ও র‍্যাব-১০-এর যৌথ দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তার সরোয়ার হোসেন জনিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বরিশাল মহানগরীর কাউনিয়া থানায় এবং মো. রায়হানকে ঢাকা মহানগরীর যাত্রাবাড়ী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। র‍্যাব জানিয়েছে, অপরাধ দমনে গোয়েন্দা নজরদারি ও ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আরো পড়ুন

মনপুরায় চাকরিচ্যুতির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন, এমএলএসএস সেলিম চাকরি ফেরত চান

মহিব্বুল্যাহ ইলিয়াছ মনপুরা প্রতিনিধি  ভোলার মনপুরায় মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজের এমএলএসএস পদ থেকে চাকরিচ্যুতির অভিযোগ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *