মইনুল আবেদিন খান, বরগুনা প্রতিনিধি: উপকূলীয় জেলা বরগুনায় চিকিৎসক সংকটের সঙ্গে যোগ হয়েছে কর্মস্থলে অনুপস্থিতি ও নানা কারণে দায়িত্ব পালনে ঘাটতি। এতে কাগজে-কলমে চিকিৎসক থাকলেও বাস্তবে তাদের একটি বড় অংশ নিয়মিত চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন না। ফলে মাত্র কয়েকজন চিকিৎসককে দিয়ে সামলাতে হচ্ছে বিপুলসংখ্যক রোগীর চাপ। এতে সরকারি চিকিৎসাসেবা নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন জেলার মানুষ।
২৫০ শয্যার বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ রয়েছে ৮১টি। এর বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ১৭ জন। কিন্তু তাদের সবাই নিয়মিত রোগী দেখছেন না। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, কর্মরত চিকিৎসকদের মধ্যে দুজন ওএসডি, একজন দন্ত চিকিৎসক ও একজন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক রয়েছেন। একজন চিকিৎসক যোগদানের পর আর কর্মস্থলে ফেরেননি এবং একজন রয়েছেন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে। কয়েকজন চিকিৎসকের উপস্থিতিও সপ্তাহে মাত্র একদিনে সীমাবদ্ধ থাকার অভিযোগ রয়েছে। ফলে নিয়মিত চিকিৎসাসেবায় কার্যকর চিকিৎসকের সংখ্যা নেমে এসেছে প্রায় ৬ থেকে ৭ জনে।
এদিকে হাসপাতালে প্রতিদিন বহির্বিভাগে বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসা নিতে আসছেন। শতাধিক রোগী ভর্তি থাকছেন বিভিন্ন ওয়ার্ডে। সাম্প্রতিক সময়ে শিশু রোগীর চাপও বেড়েছে। ৫০ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগী ভর্তি থাকায় অনেক শিশুকে মেঝে ও বারান্দায় চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। শিশু বিশেষজ্ঞের সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
শুধু জেনারেল হাসপাতাল নয়, জেলার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতেও দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক সংকট চলছে। জেলার সরকারি স্বাস্থ্যসেবার অনুমোদিত চিকিৎসক পদের বড় একটি অংশ শূন্য রয়েছে। ফলে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে জেলা সদরে ছুটে আসছেন। এতে জেনারেল হাসপাতালের ওপর রোগীর চাপ আরও বাড়ছে।
বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক চিকিৎসক মো. আবুল ফাত্তাহ বলেন, সীমিতসংখ্যক চিকিৎসক দিয়ে বিপুল রোগীর চাপ সামলাতে হচ্ছে। চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় জনবল পাওয়া গেলে চিকিৎসাসেবার মান আরও উন্নত করা সম্ভব হবে।
বরগুনা জেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের সভাপতি মনির হোসেন কামাল বলেন, উপকূলীয় মানুষের চিকিৎসার প্রধান ভরসা সরকারি হাসপাতাল। দীর্ঘদিনের চিকিৎসক সংকটের পাশাপাশি কর্মস্থলে অনুপস্থিতির কারণে মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। শূন্য পদ পূরণের পাশাপাশি পদায়ন করা চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু চিকিৎসক পদায়ন করলেই সংকটের সমাধান হবে না। পদায়নের পর যথাসময়ে যোগদান, নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিতি এবং ছুটি ও প্রেষণের বিষয়গুলো কঠোরভাবে তদারকি করতে হবে। একই সঙ্গে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া জরুরি। অন্যথায় কাগজে চিকিৎসক বাড়লেও বাস্তবে রোগীদের দুর্ভোগ কমবে না।
Daily Bangladesh Bani বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের দৈনিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে, সমাজের অন্ধকার দিকগুলো উন্মোচন করে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকারের প্রচার করি।