নিজস্ব প্রতিবেদক : নাশকতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে গোপন বৈঠকের অভিযোগে বরিশাল নগরের বটতলা এলাকা থেকে ১২ জন আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীকে আটক করেছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) গোয়েন্দা শাখা ও কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) হালিমা খাতুন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন একটি ভবনে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
একই সময়ে নগরজুড়ে মাদক ও অপরাধ দমনেও জোরালো অভিযান চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পৃথক এসব অভিযানে ৪ দশমিক ৫ কেজি গাঁজা ও ৩৯ পিস ইয়াবাসহ মোট ২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে বিএমপির অভিযানে ২০ জন এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে একজন গ্রেপ্তার হয়েছেন।
শনিবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (ডিবি) পলাশ কান্তি নাথ জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ডিবির একটি চৌকস দল ও কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের সদস্যরা নগরের বটতলা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় নাশকতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে গোপন বৈঠক চলাকালে হালিমা খাতুন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন একটি ভবন থেকে ১২ জনকে আটক করা হয়।
আটকরা হলেন- নগরের ডেফুলিয়া এলাকার ইলিয়াস মুন্সী (৪৫), গোড়াচাঁদ দাস রোডের খলিলুর রহমান সুমন (৪৫), একই এলাকার সঞ্জিব কুমার দাস (৫২), আর্শেদ কন্টাক্টর গলির সিফাত (২২), কলেজ এভিনিউ এলাকার মাহাদি ইসলাম (২৬), দরগাবাড়ির ইয়াসিন আরাফাত (৩০), একই এলাকার রফিকুল ইসলাম (২৫), জিহাদ (২২), টুমচরের নাইম (২৫), শফিকুল ইসলাম, উজিরপুরের সিয়াম এবং মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার রাজিব চন্দ্র দাস।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। তাদের পরিচয় ও বৈঠকের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে জানানো হবে। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে, এর আগের দিন শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা থেকে মহানগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মাদকবিরোধী ও অপরাধ দমন অভিযান পরিচালনা করে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ। প্রায় দুই ঘণ্টার এ আকস্মিক সাঁড়াশি অভিযানে বাংলাবাজার, আলেকান্দা বটতলা, হাতেম আলী কলেজ চৌমাথা, নবগ্রাম রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) বেলাল হোসাইন, পিপিএমের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে কোতোয়ালি মডেল থানার বিশেষ আভিযানিক দল অংশ নেয়। পাশাপাশি এসআরবি-৮-এর একটি চৌকস দলও অভিযানে সহযোগিতা করে। এ সময় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী ও সন্দেহভাজন অপরাধীদের বিরুদ্ধে তল্লাশি চালানো হয়। অভিযানে সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালি জোন) অলক কান্তি শর্মাসহ পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তা ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বিএমপি মিডিয়া সেলের তথ্যানুযায়ী, ২৫ সেপ্টেম্বর মহানগর পুলিশের চারটি থানা ও গোয়েন্দা শাখার পৃথক অভিযানে ৩৯ পিস ইয়াবাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই অভিযানে গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় দুইজন, নিয়মিত মামলায় ১০ জন এবং বরিশাল মহানগর অধ্যাদেশের মামলায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সব মিলিয়ে ওই দিন বিএমপির অভিযানে ২০ জন গ্রেপ্তার হন। এর একদিন পর শনিবার সকালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়, বরিশাল পৃথক অভিযান চালিয়ে ৪ দশমিক ৫ কেজি গাঁজাসহ একজনকে গ্রেপ্তার করে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বরিশাল সিটি করপোরেশনের ২২ নম্বর ওয়ার্ডের ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের চৌমাথা মাছ বাজারের সামনে পাকা সড়কে অভিযান চালানো হয়। এ সময় তল্লাশি চালিয়ে ৪ দশমিক ৫ কেজি গাঁজাসহ মো. মানিক মিয়া (৩৩) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার মানিক মিয়া ঢাকার দক্ষিণখান থানার কাওলা এলাকার বাসিন্দা। তার পিতা মো. বেলাল হোসেন এবং মাতা নাসিমা বেগম। তার স্থায়ী ঠিকানা টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী থানার বিরতারা ইউনিয়নের বালাসুতি এলাকায়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়, বরিশালের উপপরিচালক মোহাম্মদ খোরশিদ আলম জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় কোতোয়ালি মডেল থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় আইনের ৫৬ ধারাও প্রয়োগ করা হয়েছে।
একদিকে নাশকতার আশঙ্কায় গোপন বৈঠকের বিরুদ্ধে অভিযান, অন্যদিকে মাদক ও অপরাধ দমনে ধারাবাহিক সাঁড়াশি অভিযান—দুই দিনে বরিশাল মহানগরীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা জোরদার হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং মাদক ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
Daily Bangladesh Bani বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের দৈনিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে, সমাজের অন্ধকার দিকগুলো উন্মোচন করে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকারের প্রচার করি।