সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬

বরিশালে ‘মেডিনোভা’ নাম ব্যবহার করে রোগী হয়রানি, থানায় অভিযোগ

খান আব্বাস : বরিশাল নগরীতে সুপরিচিত একটি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের নামের সঙ্গে মিল রেখে ‘বরিশাল মেডিনোভা ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ নামে পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে রোগীদের বিভ্রান্ত করে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং ভুয়া ভাউচার ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে সংঘবদ্ধ দালালচক্রের মাধ্যমে দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের ওই প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর বাদীকে এলাকা ছেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করছে বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ। থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ সেপ্টেম্বর সামছুল হক (৪৬)-এর দুই স্বজন চিকিৎসাসেবা নিতে বরিশাল নগরীতে আসেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, এক অটোচালক তাদের ভুল বুঝিয়ে উদয় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিপরীতে ঈশ্বর বসু রোডে অবস্থিত ‘বরিশাল মেডিনোভা ডায়াগনস্টিক সেন্টার’-এ নিয়ে যান। অভিযোগকারী সামছুল হকের দাবি, সেখানে নেওয়ার পর তার স্বজনদের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের যোগাযোগে সমস্যা তৈরি হয়। এমনকি তাদের ব্যবহৃত ফোন নম্বরও ব্ল্যাকলিস্টে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পরে দুই রোগীর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে ১৩ হাজার টাকা এবং চিকিৎসকের ফি বাবদ আরও ১ হাজার ৬০০ টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, এসব পরীক্ষার বিপরীতে দেওয়া ভাউচার নিয়েও তার সন্দেহ রয়েছে। পরবর্তীতে ওই প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসকের দেওয়া প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ সেবনের পর দুই রোগী অসুস্থ হয়ে পড়েন বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

এ ঘটনায় সামছুল হক কোতোয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ দায়েরের পর থেকে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেছেন। তার অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট চক্রের লোকজন তাকে বরিশাল ছেড়ে যাওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছে। অভিযোগের বিষয়ে বরিশালের গির্জা মহল্লায় অবস্থিত প্রকৃত ‘বরিশাল মেডিনোভা মেডিকেল সার্ভিসেস’-এর প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল বলেন, তাদের প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের সুনামকে কাজে লাগিয়ে নামের সঙ্গে কিছু শব্দ যুক্ত করে অন্য একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা হচ্ছে।

তিনি অভিযোগ করেন, ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দালালের মাধ্যমে রোগী আনা এবং চিকিৎসাসেবার নামে হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। এতে তাদের প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। মোস্তফা কামাল আরও বলেন, এর আগে বগুড়া রোডে ‘বরিশাল মেডিনোভা’ নাম ব্যবহার করে একই ধরনের কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ উঠেছিল।

সেখানে অনিয়মের অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনার পর প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যায় বলে তিনি দাবি করেন। পরে নতুন স্থানে আবার কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। তার দাবি, বিষয়টি নিয়ে সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পর্যন্ত লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বরিশাল সিটি করপোরেশন কীভাবে এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স দিয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহাবুদ্দিন বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানটিতে উচ্চতর ডিগ্রিধারী কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পাওয়া যায়নি। তবে প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণ ভুয়া নয় এবং এমবিবিএস ডিগ্রিধারী চিকিৎসকের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এসআই শাহাবুদ্দিন বলেন, অভিযোগের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। পরবর্তী আইনগত সিদ্ধান্ত তারাই নেবেন।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে ‘বরিশাল মেডিনোভা ডায়াগনস্টিক সেন্টার’-এর প্রশাসনিক কর্মকর্তা রিয়াজ অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, অন্য অনেক প্রতিষ্ঠানও একইভাবে চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকে।
অভিযোগকারী সামছুল হকের বিরুদ্ধেও পাল্টা দালালির অভিযোগ করেন তিনি।

রোগীদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থের ভাউচার, চিকিৎসাসেবার বৈধতা, প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স এবং অভিযোগে উল্লিখিত হুমকির বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরো পড়ুন

বরিশাল সিটি করপোরেশনের মাসিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক : স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪-এর ধারা ২৫(ক)(২) অনুযায়ী সরকার কর্তৃক …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *