বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১, ২০২৬
CREATOR: gd-jpeg v1.0 (using IJG JPEG v62), quality = 50

বরিশালে পিতাকে হত্যার দায়ে পুত্রের যাবজ্জীবন কারাদন্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক : জন্মদাতা পিতাকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় পুত্রের যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ছয় মাসের সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত করা হয়েছে। ঘটনার ১৬ বছর পর বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চাঞ্চল্যকর এ মামলার রায় ঘোষণা করেছেন বরিশালের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. সোহেল আহমেদ।

একই মামলায় অপর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত না হওয়ায় তাদের বেখসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় দন্ডিত ঘাতক পুত্র পলাশ হাওলাদার পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। আদালত সূত্রে জানা গেছে, দন্ডিত ঘাতক পুত্র পলাশ হাওলাদার বরিশালের উজিরপুর উপজেলার পরমানন্দ সাহা গ্রামের মৃত আলী আকবর হাওলাদারের ছেলে। মামলার অপর আসামি কাওসার হাওলাদার ও মিজান হাওলাদারের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের বেকসুর খালাস প্রদান করা হয়েছে।

মামলার বাদি নিহত আলী আকবর হাওলাদারের অপর পুত্র মো. শহিদ হাওলাদার এজাহারে উল্লেখ করেছেন। তাদের মা দীর্ঘদিন পূর্বে মৃত্যুবরণ করেছেন। তার পিতা একজন দিনমজুর ছিলেন। তার (শহিদ) মেঝ ভাই পলাশ সাকরাল গ্রামের ইসমাইল হোসেনের কন্যা জোছনা আক্তারকে বিয়ে করে প্রায় একবছর ঘর সংসার করে। পরবর্তীতে পুনরায় সে (পলাশ) পরিবারের সকলের অমতে ভদ্রসা গ্রামের শাহ আলম রাঢ়ীর কন্যা সুইটি বেগমকে দ্বিতীয় বিয়ে করে শশুর বাড়িতে বসবাস শুরু করে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রায়ই পলাশ তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে বাড়িতে উঠতে চাইলে তার বাবা বাঁধা প্রদান করেন। এনিয়ে বাবা আলী আকবরের ওপর চরমভাবে ক্ষিপ্ত ছিলো পলাশ। এরইমধ্যে পলাশের প্রথম স্ত্রী জোছনা বেগমকে কোন প্রকার ভরণপোষণ না দেয়ায় তিনি (জোছনা) পলাশের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় পলাশ বেশ কিছুদিন কারাভোগ করে জামিনে বের হয়।

মামলার বাদি বলেন, ওই মামলা দায়েরের জন্য পলাশ তার বাবা আলী আকবরের ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযুক্ত করেন। ফলে কারাভোগের প্রতিশোধ নিতে সে (পলাশ) মরিয়া হয়ে ওঠে। এনিয়ে ২০১০ সালের ২ মে সন্ধ্যার পর তাদের পিতার সাথে পলাশের তুমুল বাগবিতন্ডা হয়। ওইদিন দিবাগত মধ্যরাতে পলাশসহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন ব্যক্তি তার ঘুমন্ত পিতাকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যায়।

পরেরদিন (৩ মে) ভোর সাড়ে ছয়টার দিকে প্রতিবেশী আলমগীর হাওলাদার তাদের পিতাকে পাশ্ববর্তী একটি ধান ক্ষেতে হাত-পা দড়ি দিয়ে বাঁধা এবং চোখমুখ গামছা দিয়ে বাঁধাসহ রক্তাক্ত জথম অবস্থায় দেখে তাদের (শহিদ) বাড়িতে খবর দেয়। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মুমূর্ষ অবস্থায় তাদের বাবা আলী আকবর হাওলাদারকে উদ্ধার করে প্রথমে উজিরপুর উপজেলা হাসপাতালে ও পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর সেখানে তার (আলী আকবর) মৃত্যু হয়। এরপর নিহতের লাশের ময়নাতদন্ত শেষে দাফন করা হয়েছে।

এহাজারে উল্লেখ রয়েছে, অ্যাম্বুলেন্সযোগে আলী আকবরকে বরিশালে নেয়ার সময় পলাশ অ্যাম্বুলেন্সে উঠে তার বাবার গায়ে হাত দিতে গেলে তার বাবা পলাশের হাত সরিয়ে দেয়। তবে সেসময় তিনি (আলী আকবর) মুখে কোনো কথা বলতে পারেননি। এতে তার (বাদী) সন্দেহ হয়। পরবর্তীতে বাদির ছোট ভাই সবুজের কাছ থেকে ওইদিন রাতে পলাশ ও তার সহযোগিরা বাবাকে ডেকে নিয়ে যাবার ঘটনা শুনে থানায় এসে তিনি হত্যা মামলা দায়ের করেন। চাঞ্চল্যকর এ মামলায় দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১১ সালের ২৫ মার্চ উজিরপুর মডেল থানার ওসি সুকুমার রায় আদালতে তিনজনকে অভিযুক্ত করে চার্জশীট দাখিল করেন। মামলায় একাধিক স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বুধবার বিচারক উল্লেখিত রায় ঘোষণা করেছেন।

 

আরো পড়ুন

বিএম কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. শেখ মো. তাজুল ইসলামকে অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা

মোঃ মেহেরাব হোসেন রিফাত : সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ, বরিশালের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. শেখ মো. …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *