নিজস্ব প্রতিবেদক।।
মৌসুমের শুরুতেই বরিশাল জেলাসহ বিভাগ জুড়ে চোখ রাঙ্গাচ্ছে ডেঙ্গু। প্রতিনিয়তই আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ইতোমধ্যেই বরিশাল বিভাগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা তিন হাজার দু’শ ছাড়িয়েছে।
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ (শেবাচিম) বিভাগের বিভিন্ন জেলা উপজেলার হাসপাতালগুলোর পাশাপাশি উন্নত চিকিৎসা নিতে অনেকেই ভিড় করছেন রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে। ফলে সেখানেও বাড়ছে বরিশাল অঞ্চলের ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা।
দিন দিন ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যাওয়া এবং আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যার সাথে রোগী মৃত্যুর ঘটনাও বাড়ছে। ইতোমধ্যেই বরিশাল ও বরগুনার বিভিন্ন হাসপাতালে আটজন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তিনজন এবং বরগুনার হাসপাতালে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। প্রতিনিয়ত আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি ও মৃত্যুর মিছিল বেড়ে যাওয়ায় দু:চিন্তায় চিকিৎসকরাও।
বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্র জানায়, চলতি বছরের শুরু থেকে শুক্রবার ২০ জুন পর্যন্ত বরিশাল বিভাগের ৬জেলায় সরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে তিন হাজার ২৯০জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ২৮শ ৮৯ জন রোগী। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ৩৯৩জন রোগী। এরই মধ্যে মৃত্যু হয়েছে আটজন ডেঙ্গু রোগী।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র আরো জানায়, বরিশালে ডেঙ্গুর হটস্পট এখন বরগুনা জেলা। এখানে প্রতিনিয়তই সবচেয়ে বেশি মানুষ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে এবং আক্রান্তরা বরগুনা, বরিশাল ও রাজধানী ঢাকায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। গত ২৪ঘন্টায় বরিশাল শেবাচিম ও অন্যান্য হাসপাতালে ৩০জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হচ্ছে। তবে ২৮ঘন্টায় বরগুনায় আক্রান্ত হয়েছে ৫৭জন রোগী। এছাড়া পটুয়াখালীতে ১১জন, পিরোজপুরে তিনজন, ও ঝালকাঠীতে চার রোগী ভর্তি হয়েছে।
গত ২৪ঘন্টায় এসব হাসপাতালে সর্বমোট ১০৫জন রোগী ভর্তি হয়েছে। তবে ২৪ঘন্টায় হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন ১১৯ জন ডেঙ্গু রোগী। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ৩৯৩জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। তবে সরকারি হিসেবের দ্বিগুণেরও বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যু হয়েছে বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।
শুক্রবার বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, এখানে ডেঙ্গু রোগীদের সাধারণ রোগীদের সাথেই রাখা হয়েছে। প্রোটেক্ট করার জন্য অধিকাংশ রোগীদের সরকারিভাবে কোনো মশারি দেয়া হচ্ছে না। হাসপাতালে ভর্তি রোগীর স্বজনরা জানান, তাদের রোগীর জন্য কোনো মশারি দেয়া হয়নি। তবে সঠিক চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন বলে স্বীকার করেন রোগীদের স্বজনরা।
এ বিষয়ে বরিশালের বিশিষ্ট চিকিৎসক ও
বরিশাল নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব ডা. মিজানুর রহমান বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কেবল সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের তথ্য প্রকাশ করে থাকে। কিন্তু সরকারি হাসপাতালের বাইরে উন্নত চিকিৎসা সেবা নেয়ার জন্য স্ব স্ব জেলার বিভিন্ন ক্লিনিক এমনকি রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন সরকারি এবং বেসরকারি হাসপাতালেও ভর্তি হচ্ছেন রোগীরা। সে হিসেবে আক্রান্ত ও মৃত্যু রোগীর সংখ্যা দ্বিগুনেরও বেশি হবে।
তিনি বলেন, আক্রান্ত রোগীদের সুচিকিৎসার পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে চিকিৎসকসহ সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং এই মূহুর্তে প্রত্যেকের বাড়ির আঙ্গিনা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরি।
এ বিষয়ে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, প্রতিনিয়ত বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীদের উন্নত চিকিৎসাসেবা দেয়ার চেষ্টা করছেন।
তবে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় তাদের সাধারণ রোগীদের সাথেই রাখতে হচ্ছে। রোগীদের মশারি দেয়া হচ্ছে না এমন অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি জানান, ডেঙ্গু আক্রান্তদের মশারি দেয়া হলেও অনেক রোগী মশারি ব্যবহার করতে চাইছেন না।
বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মাসের শুরু থেকে বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমেই বাড়তে শুরু করেছে। বর্ষা মৌসুমে এবং জুলাই আগস্টে ডেঙ্গুর প্রবণতা আরো বৃদ্ধির শঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল বলেন, বৃষ্টি বাড়লেই ডেঙ্গুর আতঙ্ক বেড়ে যায়। কারণ বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা হয় এবং এসময় মশার বিস্তার বেড়ে যায়। এতে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। তবে ডেঙ্গু রোগী বৃদ্ধির প্রধান কারণ নাগরিকদের অসচেতনতা।
মানুষের মধ্যে সচেতনতা না বাড়লে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কমবে না। ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল আরো বলেন, আমাদের চিকিৎসাসেবা দেয়ার মতো সামর্থ্য রয়েছে।
সবাই মিলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কাজও করছে। তবে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করতে হলে সকলের সচেতন হওয়ার বিকল্প নেই।
Daily Bangladesh Bani বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের দৈনিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে, সমাজের অন্ধকার দিকগুলো উন্মোচন করে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকারের প্রচার করি।