বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ২৯, ২০২৬

‎গৌরনদীতে সিজারের পর অক্সিজেন না পেয়ে প্রসূতির মর্মান্তিক মৃত্যু

‎সোলায়মান তুহিন, গৌরনদী
‎বরিশালের গৌরনদীতে সিজারিয়ান অপারেশনের মাত্র ১৫ মিনিট পর শ্বাসকষ্টে কাতরাতে কাতরাতে এক প্রসূতি নারীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ‎আর এমন সংকটময় মুহূর্তে ক্লিনিকের ডাক্তার ও স্টাফদের দায়িত্ব এড়িয়ে রাতের আঁধারে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা এলাকাজুড়ে ক্ষোভের ঝড় তুলেছে।

‎নিহত সাথী আক্তার পরী উজিরপুর উপজেলার ভরষাকাঠি গ্রামের মো. ইমন আকনের স্ত্রী। শনিবার সকালে তাকে বাটাজোর এলাকার মদিনা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি করা হয়। বিকেল ৪টায় তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয় এবং সাড়ে ৪টায় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ জানায় সিজারিয়ান অপারেশন সফল হয়েছে এবং মা ও নবজাতক ছেলে সুস্থ আছেন।

‎কিন্তু মাত্র পনেরো মিনিটের মধ্যেই পরিস্থিতি পুরোপুরি পাল্টে যায়। সাথী আক্তার পরীর হঠাৎ শ্বাসকষ্ট শুরু হলে তিনি নিজেই বারবার অক্সিজেন দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু তখন ক্লিনিকে একটি কার্যকর অক্সিজেন সিলিন্ডারও প্রস্তুত ছিল না। জীবন বাঁচানোর জরুরি মুহূর্তে অক্সিজেন না পাওয়ায় তার শারীরিক অবস্থা দ্রুত অবনতি হতে থাকে।

‎পরিবারের অভিযোগ করে বলেন ক্লিনিকে পর্যাপ্ত আইসিইউ সুবিধা, অক্সিজেন সাপ্লাই কিংবা ন্যূনতম জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকা সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষ সিজার অপারেশন করায় তার জীবনকে চরম ঝুঁকিতে ফেলা হয়। এর চেয়েও অমানবিক ঘটনা রোগীর অবস্থা বেগতিক হতে শুরু করতেই উপস্থিত ডাক্তার ও স্টাফরা দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে ক্লিনিক ছেড়ে পালিয়ে যান। ফলে রোগীর যথাযথ চিকিৎসা আর সম্ভব হয়নি।

‎ঘটনার পর ক্লিনিক পরিচালনা কর্তৃপক্ষ পলাতক থাকায় তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা মদিনা ক্লিনিকের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং অবিলম্বে তদন্ত করে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ন্যূনতম চিকিৎসা সুবিধা ছাড়াই এ ক্লিনিকে ঝুঁকিপূর্ণ সিজার করানো হচ্ছে, যা মানুষের জীবনের সঙ্গে ভয়ানক জুয়া খেলার সামিল।

‎এ বিষয়ে গৌরনদী মডেল থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম জানান, লিখিত অভিযোগ পেলেই প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করা হবে।

‎শোকাহত পরিবারের এখন একটাই দাবি, এই অমানবিকতা, চরম অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার সঙ্গে জড়িত সকলকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ‎তাদের প্রশ্ন, জীবন রক্ষার প্রতিষ্ঠান যদি এভাবে মৃত্যু ফাঁদে পরিণত হয়, তবে সাধারণ মানুষের আস্থা আর কোথায় দাঁড়াবে?

আরো পড়ুন

হাতপাখার পক্ষে প্রচারণায় ঝড় তুলেছেন নারী কর্মীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরিশাল–৫ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *