বোরহানউদ্দিন প্রতিনিধি : ভোলা-২ (বোরহানউদ্দিন–দৌলতখান) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক মুফতি মাওলানা ফজলুল করীমের নির্বাচনী প্রচারণা ও কর্মীদের ওপর ধারাবাহিক হামলার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. হাফিজ ইব্রাহিমকে সশরীরে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে পুলিশকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
মঙ্গলবার ভোলার সিভিল জজ মো. সুমন হোসেন স্বাক্ষরিত এক আনুষ্ঠানিক চিঠিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ ও ২৬ জানুয়ারি বোরহানউদ্দিন উপজেলার পৃথক দুটি স্থানে জামায়াত প্রার্থীর সমর্থকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। প্রথম দফার হামলাটি ঘটে ২৫ জানুয়ারি বোরহানউদ্দিন বাজারসংলগ্ন পক্ষিয়া ইউনিয়ন এলাকায়।
সেখানে জামায়াত প্রার্থীর সমর্থকদের একটি শান্তিপূর্ণ মিছিল চলাকালে লোহার রড, হকিস্টিক ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এতে নূর ইসলাম আলম নামে এক কর্মীর মাথায় রডের আঘাতে গুরুতর জখম হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও নৌবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে লক্ষ্য করেও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে, ফলে এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এরপর একই দিন রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ভোলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সামনে দ্বিতীয় দফা হামলার ঘটনা ঘটে। এশার নামাজ শেষে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে মো. ওবায়দুল্লাহ নামে এক মসজিদের ইমামকে লোহার রড দিয়ে আঘাত করা হয়। আঘাতে তার মাথায় থাকা হেলমেট ভেঙে যায় এবং তিনি রক্তাক্ত জখম হন। এ সময় হামলাকারীরা প্রায় ১ লাখ ২৪ হাজার টাকা মূল্যের একটি মোটরসাইকেল সম্পূর্ণ ভাঙচুর করে।
আহতদের তাৎক্ষণিকভাবে বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে তাদের অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এ ঘটনায় জামায়াত প্রার্থীর পক্ষ থেকে ৩৩ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ৩০ থেকে ৩৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা-২০২৫ এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (RPO) ১৯৭২ লঙ্ঘনের অভিযোগে বিএনপি প্রার্থী মো. হাফিজ ইব্রাহিমকে একটি আনুষ্ঠানিক কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, আগামী ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) দুপুর ১২টায় দৌলতখানস্থ সিভিল জজ আদালতের অস্থায়ী কার্যালয়ে সশরীরে অথবা উপযুক্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে উপস্থিত হয়ে লিখিত ও মৌখিক ব্যাখ্যা দিতে হবে। একই সঙ্গে বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) ঘটনাটি জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত করে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জামায়াত প্রার্থীর পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, হামলার ভিডিও ফুটেজ ও স্থিরচিত্রসহ প্রয়োজনীয় প্রমাণ ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, সন্ত্রাসীদের অব্যাহত হুমকির কারণে এলাকায় অন্যান্য দলের স্বাভাবিক নির্বাচনী কার্যক্রম কার্যত বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এ বিষয়ে গঠিত নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি তদন্ত সংক্রান্ত অনুলিপি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)সহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে প্রেরণ করেছে।
Daily Bangladesh Bani বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের দৈনিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে, সমাজের অন্ধকার দিকগুলো উন্মোচন করে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকারের প্রচার করি।