চরফ্যাশন প্রতিনিধি : ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার শশীভূষণ থানাধীন এওয়াজপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নিয়াজ তালুকদার নামে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে পারিবারিক ভোগদখল কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, চেয়ারম্যান বাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শাহাবুদ্দিন মাস্টারের নেতৃত্বে কয়েকজন মিলে নিয়াজ তালুকদারের ওপর হামলা চালান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের একপর্যায়ে নিয়াজ তালুকদারকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় ও পুলিশের সহযোগিতায় দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহত নিয়াজ তালুকদারের পরিবারের দাবি, এই হামলা পূর্বপরিকল্পিত এবং দীর্ঘদিন ধরে চলমান জমি দখল সংক্রান্ত বিরোধেরই বহিঃপ্রকাশ। তাদের অভিযোগ, অভিযুক্তরা পূর্ব থেকেই বিভিন্নভাবে নিয়াজ তালুকদারকে তার পৈত্রিক ও ক্রয়কৃত সম্পত্তি ভোগদখল করতে বাধা দিয়ে আসছিল এবং তাকে নানা সময়ে হুমকি ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ঘটনার সময় শাহাবুদ্দিন মাস্টারের সঙ্গে তার স্ত্রী শাহনাজ বেগম, বড় ভাই নাজিম তালুকদার, নাজিম তালুকদারের ছেলে ইমন, তার স্ত্রী নুরনাহার বেগম এবং বোন রুমা উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তারাও সংঘর্ষে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে নিয়াজ তালুকদারের ওপর হামলা চালান।
এদিকে ঘটনার সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করেন। পরে শশীভূষণ থানার এসআই জাকির হোসেনের নেতৃত্বে একটি পুলিশ টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পরিদর্শন করে এবং উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার নির্দেশ দেয়।
এ বিষয়ে এসআই জাকির হোসেন বলেন,
“৯৯৯-এ ফোন পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। আহত ব্যক্তির অবস্থা খারাপ দেখে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।” পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তবে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
এলাকাবাসীর একাংশের অভিযোগ, নিয়াজ তালুকদার দীর্ঘদিন ধরে একই পক্ষের দ্বারা বিভিন্নভাবে হয়রানি ও হামলার শিকার হয়ে আসছেন। জমি দখল, মাটি উত্তোলন, ভোগদখলে বাধা সৃষ্টি—এসব বিষয় নিয়ে একাধিকবার সামাজিকভাবে মীমাংসার চেষ্টা হলেও তা স্থায়ী সমাধানে পৌঁছায়নি।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ এলাকায় এ ধরনের সহিংস ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে, যা সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
Daily Bangladesh Bani বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের দৈনিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে, সমাজের অন্ধকার দিকগুলো উন্মোচন করে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকারের প্রচার করি।