বৃহস্পতিবার, জুন ২৫, ২০২৬

কলাপাড়ায় দেড়শ বছরের পুরোনো মসজিদে খোলা আকাশের নিচে নামাজ আদায়

মহিপুর প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের সলিমপুর গ্রামে অবস্থিত প্রায় দেড়শ বছরের পুরোনো একটি মসজিদে খোলা আকাশের নিচে নামাজ আদায় করছেন মুসল্লিরা। স্থানীয়ভাবে এটি “খায়গো বাড়ির মসজিদ” নামে পরিচিত। দীর্ঘদিনের পুরোনো মসজিদটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হলেও অর্থ সংকটে বর্তমানে সেই কাজ বন্ধ হয়ে আছে। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় মুসল্লিরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আনুমানিক ১৫০ থেকে ১৬০ বছর আগে বাবু খাঁ নামের এক ব্যক্তি খড় ও বাঁশ দিয়ে প্রথম মসজিদটি নির্মাণ করেন। পরে ধাপে ধাপে কাঠ, গোলপাতা ও টিনের ঘরে দীর্ঘদিন ইবাদতের কার্যক্রম চলতে থাকে। সর্বশেষ ইটের দেয়াল ও টিনের ছাউনিযুক্ত মসজিদে নামাজ আদায় করা হলেও সময়ের ব্যবধানে দেয়ালের পলেস্তরা খসে পড়ে এবং চারপাশে ফাটল দেখা দেয়।
মুসল্লিদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে মসজিদ কমিটি পুরোনো ভবনটি ভেঙে ফেলে নতুন একতলা ভবনের নির্মাণকাজ শুরু করে। মসজিদ কমিটির সদস্যরা জানান, পুরোনো মসজিদের ইট, ফান্ডে থাকা সামান্য অর্থ এবং স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রায় দেড় বছর আগে নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়। তবে গত ছয় মাস ধরে অর্থাভাবে কাজ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
ফলে বাধ্য হয়ে মুসল্লিরা খোলা আকাশের নিচে ওয়াক্তের নামাজ ও জুমার নামাজ আদায় করছেন। বৃষ্টি হলে নামাজ আদায় করাও কঠিন হয়ে পড়ে। মসজিদের নিয়মিত মুসল্লি দেলোয়ার মোল্লা বলেন, “আগে আমাদের মসজিদে অনেক মুসল্লি হতো। কিন্তু এখন ছাদ না থাকায় রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে নামাজ পড়তে হয়। এতে অনেকেই কষ্টের কারণে নিয়মিত আসতে পারছেন না।”
মসজিদের ইমাম ও খতিব অলিউল্লাহ জানান, মসজিদের আশপাশে প্রায় এক থেকে দেড়শ পরিবার বসবাস করে এবং অধিকাংশ পুরুষ সদস্য এই মসজিদেই নামাজ আদায় করেন। কিন্তু বর্তমানে ছাদ না থাকায় ঝড়-বৃষ্টি হলে নামাজ আদায় সম্ভব হয় না। এতে মুসল্লির সংখ্যাও কমে গেছে।
মসজিদ কমিটির সহ-সভাপতি হামিদ মিয়া বলেন, “মাত্র ৫০ হাজার টাকা নিয়ে নির্মাণকাজ শুরু করা হয়েছিল। এলাকার অধিকাংশ মানুষই দরিদ্র। তাদের সহযোগিতায় কোনোমতে পিলার পর্যন্ত কাজ করা হয়েছে। বর্তমানে মসজিদের প্রায় পৌনে তিন লাখ টাকা ঋণ রয়েছে। ফান্ডে কোনো অর্থ নেই। তাই বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষের সহযোগিতা ছাড়া কাজ শেষ করা সম্ভব নয়।”
মসজিদের সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন মিয়া বলেন, “এ পর্যন্ত নির্মাণকাজে প্রায় সাত থেকে আট লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। এখন অর্থ সংকটে কাজ বন্ধ রয়েছে। বর্ষা মৌসুমের আগেই ছাদ নির্মাণ করতে না পারলে মুসল্লিদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। তাই দেশ-বিদেশে থাকা ধর্মপ্রাণ ও মানবিক মানুষের সহযোগিতা কামনা করছি।” এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউসার হামিদ বিষয়টি দেখবেন বলে আশ্বাস দেন।

আরো পড়ুন

বর্জ্য পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে বরিশাল সিটি করপোরেশন

নিজস্ব প্রতিবেদক।। বরিশাল নগরীকে পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব করতে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্থাপনের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *