সোমবার, মে ১১, ২০২৬

স্বাধীন সাংবাদিকতা শুধু সাংবাদিকদের জন্য নয়, এটা সবার জন্য প্রয়োজন’ : মাহফুজ আনাম

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল : 
দ্য ডেইলি স্টার-এর ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ রোববার বিকেলে বরিশালে সুধী সমাবেশের আয়োজন করা হয়। নগরীর বান্দরোডে শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজন করা হয় এই অনুষ্ঠানের।
বিকেল সাড়ে চারটায় জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। এরপর মহান মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থান এবং জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে ডেইলি স্টার-এ হামলার ঘটনা নিয়ে তৈরি একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
অনুষ্ঠানে ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, বরিশাল কৃষি, পর্যটনের একটি সম্ভাবনাময় অঞ্চল। কিন্তু সত্যিকারার্থে আমাদের পত্রিকায় সেই সম্ভাবনাগুলোকে সেভাবে জায়গা দিতে পারিনি। এজন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি এবং আগামীতে আমরা যথাযথভাবে সে সব তুলে ধরার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।
মাহফুজ আনাম তাঁর বক্তব্যে গণতন্ত্রর জন্য স্বাধীন সাংবাদিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘স্বাধীন সাংবাদিকতা শুধু সাংবাদিকদের জন্য নয়, এটা সমাজের জন্য, রাষ্ট্রের জন্য এমনকি সকলের জন্যেই প্রয়োজন। সত্যিকার অর্থে যদি সবাই স্বাধীন সাংবাদিকতা সমর্থন করেন, তাহলে সেই সমাজ গণতান্ত্রিক হবে। সেই সমাজ জবাবদিহিমূলক হবে।
তিনি উপমা দিয়ে বলেন, স্বাধীন সায়ংবাদিকতা হলো একজন চিকিৎসকের মতো। আমরা রোগ নির্ণয় ও তা চিকিৎসার জন্য যেমন চিকিৎসকের শরনাপন্ন হই, তেমনি একটি সরকারের কিংবা সমাজের ভুল-ত্রটি নির্ণয় করে স্বাধীন সাংবাদিকতা। যদি স্বাধীন সাংবাদিকতা না থাকে তাহলে গণতন্ত্র বিকাশ অসম্ভব। সমাজ সুস্থ থাকতে পারে না।’
রাজনীতিবিদদের স্বাধীন সাংবাদিকতাকে সমর্থন করা উচিত উল্লেখ করে ডেইলি স্টার সম্পাদক আরও বলেন, ‘আমি রাজনীতিবিদদের উদ্দেশে বলবো, আপনাদের কাছে সত্য কথা কে বলবে? আপনারদের দলীয় নেতা-কর্মীরা বলবে না। কারণ, নিজের দলের লোকও অনেক সময় সত্য বলতে ভয় পায়। আমলাতন্ত্র বলবে না। গোয়েন্দা সংস্থা বলবে না। একমাত্র স্বাধীন, নিরপেক্ষ এবং মানসম্মত সাংবাদিকতাই আপনাদের কাছে সত্য পৌঁছে দিতে পারে। যদি আপনারা সত্যিকারের গণতন্ত্র চান, তাহলে স্বাধীন সাংবাদিকতাকে সমর্থন করতে হবে। কারণ, গণতান্ত্রিক সরকারের সঙ্গে স্বাধীন সাংবাদিকতার যে সম্পর্ক তা যখন সরকার না বোঝে তাহলে সরকার জনরোষে পড়ে পতন গয়। তার উদহারণ আমাদের বহু আছে।
সত্যিকারার্থে একটি খবরের কাগজের ভবিষ্যৎ নির্দারিত হয় পাঠকের আস্থার ওপর উল্লেখ করে মাহফুজ আনাম বলেন, আমাদের সাংবাদিকতার ওপর যদি আস্তা না থাকে তাহলে সেই খবরের কাগজ আপনারা পড়বেন না। আমাদের ৩৫ বছরের যাত্রা এবং ২০২৫ সালের আমাদের ওপর চালানো ধ্বংসযজ্ঞের পর আবার পুনরুজ্জীবন আমাদের স্বাধীন সাংবাদিকতার ভিত্তিকে আরও সুদৃঢ় করেছে। আমরা দমে যাইনি। কারণ,ডেইলি স্টার কখনো কোনো সরকারের পক্ষে দাঁড়ায়নি; বরং সব সময় সত্যের পক্ষে দাঁড়িয়েছে। প্রত্যাকটি সরকারকে জবাবদিহি করেছে। সেটা আজ অবধি অব্যাহত রেখেছে, ভবিষ্যতেও রাখবে।
অনুষ্ঠানে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল জেলা পরিষদ প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান বলেন, আমাদের দল গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে সম্মান করে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন এই সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করবে না।
ডেইলি স্টার স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতায় যে অবদান রেখে যাচ্ছে তা অনুকরনীয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা চাই এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। ব্যক্তিগতভাবে আমিও চাই সাংবাদিকরা সত্য তুলে ধরবেন তাতে কে খুশি হলো আর কে অখুশি হলো সেটা বিবেচনা করবেন না।
অনুষ্ঠানে বরিশাল চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি এবায়দুল হক চান বলেন, বরিশাল শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অন্যান্য অবকাঠামো উন্ন্রযনের দিক থেকে অনেক পিছিয়ে। আমরা চাই, ডেইলি স্টার এই বিষয়গুলো জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরে নীতি নির্ধারকদের কাছে পৌছায়। বিশেষ করে ভোলার গ্যাস বরিশালে আনা, ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করা, পায়রা বন্দরকে গতিশীল করার উদ্যোগ এবং কুয়াকাটা পর্যটন কেন্দ্রকে আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনে কেন্দ্রে উন্নীত করার মতো বিষয়গুলো সরকারের কাছে তুলে ধরার দাবি জানান। তিনি এসময় প্রথম আলো-ডেইলি স্টারে যে নারকীয় হামলা হয়েছে তার নিন্দা জানান এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয় সে ব্যাপারে সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ডেইলি স্টারের বরিশাল প্রতিনিধি সুশান্ত ঘোষ। এতে অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন.বরিশাল জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. ওবায়দুল্লাহ, বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আলম ফরিদ, নগর জামায়াতের নায়েবে আমির মাহমুদ হোসাইন দুলাল, ইসলামী আন্দোলনের জেরা আমির মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, বাম গণতান্ত্রিক এক্য ফ্রন্টের সমন্বয়ক শহিদুল ইসলাম মিলন, বাসদের জেলা সদস্য সুজন আহমেদ, এবি পার্টির মহানগর সদস্য সচিব জিএম রাব্বি, গণসংহতি আন্দোলনের জেলা শাখার নির্বাহী সমন্বয়ক আরিফুর রহমান মিরাজ, গণ অধিকার পরিষদের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসরাম রাসেল, সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) জেলা সভাপতি টুনু রাণী কর্মকার, শিশু সংগঠক পংকজ রায় চৌধুরী,বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি, আমিনুল ইসলাম খসরু, বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির সম্পাদক, খালিদ সাইফুল্লাহ, পটুয়াখালী প্রেস ক্লাবের সভাপতি, মোহাম্মদ জাকির হোসেন, ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের সভাপতি, মোঃআক্কাস শিকদার প্রমুখ।

আরো পড়ুন

’বাবারে, আমাদের আর ফেলে রাখিস না’-অসুস্থ বৃদ্ধ পিতামাতা আহাজারি 

মোঃ রাসেল হাওলাদার, জিয়ানগর : দশ মাস দশ দিন গর্ভে ধারণ করে, বুকের দুধ খাইয়ে, …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *