রবিবার, জুন ২৮, ২০২৬

নেছারাবাদে ভাঙনের কবলে বিপর্যস্ত ডুবি – কাটাখালী, স্থায়ী সমাধানের দাবি

মোঃ ফরিদ আহমেদ, নেছারাবাদ প্রতিনিধি :
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার ১নং বলদিয়া ইউনিয়নের ডুবি – কাটাখালী বাণিজ্যিক খালের আগ্রাসী ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে ডুবি থেকে কাটাখালীর একমাত্র প্রধান সড়ক এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পুল। বছরের পর বছর ধরে চলা ভাঙনে ইতোমধ্যে বিলীন হয়েছে কয়েক শতাধিক বসতবাড়ি, ফসলি জমি, গাছপালা ও বনাঞ্চল। বর্তমানে ডুবিবাজার, ডুবি আলিয়া মাদ্রাসা, দক্ষিণ ডুবি রেজাউল করিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ডুবি বাইতুন আমান জামে মসজিদসহ কয়েকটি গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ সড়ক ভাঙ্গনের ঝুঁকিতে রয়েছে। ফলে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, মুসল্লি ও স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিনিয়ত আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় এক যুগ ধরে ভাঙন চললেও স্থায়ীভাবে তা প্রতিরোধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় স্থাপনা এবং বহু বসতবাড়ি খালের গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। তাঁরা ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।
গতকাল শুক্রবার (২৬ জুন) সরেজমিনে দেখা যায়, ডুবি দক্ষিণপাড় থেকে কাটাখালী পর্যন্ত যাওয়ার একমাত্র সড়কের অধিকাংশই খালের গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভেঙে পড়ে সড়কের পাশে ঝুলে আছে একাধিক সাঁকো। কোথাও কোথাও ভাঙন এসে পৌঁছেছে বসতঘরের সিঁড়ি পর্যন্ত। ভাঙনের ভয়ে কেউ কেউ ইতিমধ্যে বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন এলাকা খালের গর্ভে বিলীন হচ্ছে।
ডুবি গ্রামের বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর বলেন, ‘আমরা কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করি, কিন্তু চলাচলের জন্য কোনো রাস্তা নেই। সরকার যদি আমাদের দিকে না তাকায়, তাহলে খাল দিয়েই চলাফেরা করতে হবে। আমাদের রক্ষা করুন।’
দক্ষিণ ডুবি রেজাউল করিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. ফাইজুল হক বলেন, ‘খালের ভাঙনে আমাদের এলাকার রাস্তাঘাট প্রায় শেষ হয়ে গেছে। বিদ্যালয়ের সামনেও প্রতিনিয়ত ভাঙছে। শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে আসে। দ্রুত ভাঙনরোধ ও রাস্তা নির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।’
স্থানীয় বাসিন্দা ও নেছারাবাদ উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আজহারুল ইসলাম টুটুল বলেন, ‘ডুবি-কাটাখালী খালটি কালীগঙ্গা নদীতে গিয়ে মিলেছে। গত এক যুগে ভয়াবহ ভাঙনে কয়েক শ একর ফসলি জমি, রাস্তা ও পুল খালের গর্ভে বিলীন হয়েছে। প্রতিনিয়ত মানুষের বসতভিটা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জমি ভাঙছে।’ তিনি দ্রুত খালের পাশে স্থায়ী গাইডওয়াল নির্মাণ এবং নতুন করে রাস্তা ও পুল নির্মাণের দাবি জানান।
১নং বলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান জানান, ডুবি থেকে কাটাখালী পর্যন্ত সড়কটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ যা প্রায় পুরোটাই বিলীন হয়ে গেছে। প্রতিনিয়ত মানুষের জমি ও বসতবাড়ি ভাঙছে। ভাঙনরোধ এবং নতুন সড়ক নির্মাণে বৃহৎ একটি সরকারি প্রকল্প গ্রহণ করা হলে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব।

আরো পড়ুন

কৃষিতে নীরব বিপ্লব: সবজির সবুজ সমারোহে স্বাবলম্বী নীলগঞ্জের কুমিরমারা গ্রাম

মাহতাব হাওলাদার, মহিপুর প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের কুমিরমারা গ্রাম আজ কৃষি উৎপাদনের এক …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *