খান আব্বাস
বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক পদে ডা. মনিরুজ্জামান শাহীনকে নিয়োগ দেওয়ার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতাল। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শেবাচিম হাসপাতালের উপপরিচালক পদে থাকাকালীন স্বৈরাচারী অবস্থান নেওয়া এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে জড়িত থাকার অভিযোগে এই বিতর্কিত কর্মকর্তার নিয়োগ বাতিল চেয়েছেন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা।
আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) শেবাচিম হাসপাতাল চত্বরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ‘জুলাই যোদ্ধা’দের সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসক ও মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের উদ্যোগে এক বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। বিক্ষোভের একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বিগত জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে যখন সাধারণ শিক্ষার্থীরা রাজপথে ছিল, তখন ডা. মনিরুজ্জামান শাহীন হাসপাতালের তৎকালীন পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন নস্যাৎ করার নানামুখী অপচেষ্টা চালান।
শেবাচিমের মিড লেভেল ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের নেতা ডা. ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, “ডা.এস এম মনিরুজ্জামান শাহীন আন্দোলনকারী চিকিৎসকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছেন, গোয়েন্দা সংস্থার কাছে শিক্ষার্থীদের তথ্য পাচার করেছেন এবং স্বৈরাচারী সরকারের পক্ষে ‘শান্তি সমাবেশ’ আয়োজনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। এমন বিতর্কিত কর্মকর্তা কোনোভাবেই এই পদের যোগ্য নন।
মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে শেবাচিম শাখা ছাত্রদলের সভাপতি প্রিন্স মাহমুদ বলেন, “চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের রক্তের দাগ এখনো শুকায়নি। এমন পরিস্থিতিতে স্বৈরাচারের কোনো দোসরকে বরিশালের স্বাস্থ্য বিভাগের অভিভাবক হিসেবে কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।”
তিনি আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই বিতর্কিত নিয়োগ আদেশ বাতিল করার আলটিমেটাম দিয়ে বলেন, অন্যথায় বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় ঘেরাওসহ আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধনে শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন চিকিৎসক, বৈষম্যবিরোধী চিকিৎসক পরিষদের নেতৃবৃন্দ এবং মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের শীর্ষ সারির নেতৃবৃন্দসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
Daily Bangladesh Bani বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের দৈনিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে, সমাজের অন্ধকার দিকগুলো উন্মোচন করে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকারের প্রচার করি।