হিজলা প্রতিনিধি :
বরিশালের হিজলা উপজেলার হরিনাথপুর ইউনিয়নের একটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া নালিশী মামলায় হতাশায় মামলার ভুক্তভোগীরা। মামলার বাদী মো. আমির হোসেন বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত, বরিশালে একটি নালিশী মামলা দায়ের করেন। অভিযোগে একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা, মারধর ও গুরুতর জখম করার অভিযোগ করা হয়েছে। আদালত মামলা তদন্তের জন্য হিজলা থানার অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশ প্রদান করেন।
বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।
মামলার বাদীর দাবি জমি সংক্রান্ত বিরোধে তাকে একা পেয়ে বিবাদী পক্ষের লোকজন মারপিট করে পা ভেঙ্গে দেয় । অপরদিকে বিবাদী পক্ষের দাবি তিনি মটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন । আমাদের জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই মিথ্যা মামলা ।
তবে সরোজমিনে গিয়ে জানা যায় তাঁরা উভয়ে আত্মীয় স্বজন । তাদের দীর্ঘদিনের জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলমান । জমি সংক্রান্ত বিরোধে উভয় পক্ষের একাধিক মামলা রয়েছে ।
মামলার আসামি আশুলী আবুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস্কান্দার আলী বলেন ঘটনাটি মূলত একটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ছিল । দীর্ঘদিনের জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে দুর্ঘটনাটিকে পরিকল্পিতভাবে গুরুতর ফৌজদারি মামলায় রূপ দেওয়া হয়েছে । তিনি আরো দাবি করেন ঘটনার পর অভিযোগকারী প্রথমে হিজলা থানায় অভিযোগ দাখিল করলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন, স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রাথমিক অনুসন্ধান করেন । তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় তখন মামলা গ্রহণ করা হয়নি । পরে অভিযোগকারী আদালতের শরণাপন্ন হলে আদালত আইনানুগ প্রক্রিয়ায় তদন্তের স্বার্থে এফআইআর রুজুর নির্দেশ দেন।
তিনি আরও দাবি করেন, মামলার অন্যতম আসামি আমি একজন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। এছাড়া কয়েকজন আসামি অভিযোগিত ঘটনার সময় কর্মস্থল বা ব্যবসায়িক কারণে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছিলেন। তদন্তে এসব তথ্য যাচাই করলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন ।তাদের আরও অভিযোগ, বাদীপক্ষের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা-সংক্রান্ত দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিরোধ চলে আসছে ।
অতীতেও উভয় পক্ষের মধ্যে একাধিক মামলা হয়েছে, যার কয়েকটিতে তদন্ত শেষে অব্যাহতি পাওয়া গেছে বলে তারা দাবি করেন । এমনকি পারিবারিক বিরোধ নিয়েও উভয় পক্ষের মধ্যে বিচারাধীন মামলার কথাও উল্লেখ করেন তারা ।এদিকে আদালতের নির্দেশে এফআইআর রুজু হওয়ার পর কয়েকজন আসামি গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় বাড়িঘর ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে তাদের পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন । এতে পরিবারগুলোতে উদ্বেগ, আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে ।
মামলার আরেক আসামি রাসেল মোবাইল ফোনে জানান তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ সিলেট শহরে কাপুরের ব্যবসায়ী । তিনি বলেন কোথায় কখন মারামারি হয়েছে তিনি কিছুই জানেন না । পরিবারের সদস্যরা ফোন করে জানান তিনি মামলার আসামি ।
মামলার বাদী আমির হোসেনের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও বন্ধ পাওয়া যায় ।
হিজলা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ সোলায়মান জানান, আদালতের নির্দেশে আমরা মামলা রুজু করি । তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে ।
Daily Bangladesh Bani বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের দৈনিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে, সমাজের অন্ধকার দিকগুলো উন্মোচন করে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকারের প্রচার করি।