মাহতাব হাওলাদার, মহিপুর প্রতিনিধি:
“শুধু পেটভরে ভাত খাওয়ার জন্য একসময় হোটেলে কাজ করেছি। সেই দিনগুলোর কথা আজও ভুলতে পারিনি।”
কথাগুলো সাংবাদিক হাসান পারভেজের। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের জীবনের কঠিন বাস্তবতার কিছু স্মৃতি ভাগাভাগি করে নেন তিনি। তাঁর সেই আবেগঘন লেখাটি ইতোমধ্যে অনেকের হৃদয় ছুঁয়েছে।
পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের সন্তান হাসান পারভেজ। আজ তিনি উপকূলীয় কমিউনিটি পত্রিকা হাতে লেখা ‘আন্ধার মানিক’–এর কর্ণধার ও একজন পরিচিত সাংবাদিক। কিন্তু এই পরিচয়ের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রাম, অসংখ্য কষ্ট আর না হার মানা এক জীবনের ইতিহাস।
ফেসবুক পোস্টে তিনি স্মরণ করেন ২০০৩ সালের সেই দিনগুলোর কথা। জীবিকার তাগিদে বরিশাল লঞ্চঘাটে রাবন মিয়ার ভাতের হোটেলে কর্মচারী হিসেবে কাজ করেছিলেন। পরিবারের মুখে দুমুঠো ভাত তুলে দিতে কখনো দিনমজুর, কখনো ইটভাটার শ্রমিক, কখনো ভ্যানচালক, আবার কখনো কৃষিশ্রমিক হিসেবেও কাজ করেছেন। সৎ উপার্জনের জন্য কোনো কাজকেই তিনি ছোট করে দেখেননি।
হাসান পারভেজ বলেন, “অভাব আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। ক্ষুধা মানুষকে পরিশ্রম করতে শেখায়, আর সংগ্রাম মানুষকে শক্ত হতে শেখায়। আমি বিশ্বাস করি, সৎভাবে করা কোনো কাজই ছোট নয়। আজ আমি যে অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছি, তার পেছনে রয়েছে অসংখ্য কষ্ট, মানুষের ভালোবাসা এবং মহান আল্লাহর অশেষ রহমত। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত উপকূলের মানুষের কথা লিখে যেতে চাই।”
ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের কলাপাড়া উপজেলা প্রতিনিধি মো. ফরিদ উদ্দিন বিপু বলেন, “হাসান পারভেজের জীবন কেবল একজন সাংবাদিকের গল্প নয়, এটি একজন সংগ্রামী মানুষের জয়গাথা। কঠোর পরিশ্রম, সততা ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা তাঁকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে। নতুন প্রজন্মের জন্য তাঁর জীবন অবশ্যই অনুকরণীয়।”
মহিপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. মাহতাব হাওলাদার বলেন, “হাসান পারভেজকে আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি। জীবনের কঠিন সময়গুলো তিনি কখনো লুকিয়ে রাখেননি। বরং সেই অভিজ্ঞতাকেই শক্তিতে পরিণত করেছেন। মানুষের পাশে থাকা, সত্য তুলে ধরা এবং সমাজের অবহেলিত মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠার যে চেষ্টা তিনি করে চলেছেন, তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। তাঁর জীবনসংগ্রাম অনেক তরুণকে সততা ও পরিশ্রমের পথে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করবে।”
জীবনের প্রতিটি ধাপে প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করেও স্বপ্নকে হারিয়ে যেতে দেননি হাসান পারভেজ। দারিদ্র্য তাঁকে থামাতে পারেনি, বরং আরও দৃঢ় করেছে। আজ তাঁর গল্প মনে করিয়ে দেয়— মানুষ যদি নিজের লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত না হয়, তবে অভাব কখনোই তার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে না। সংগ্রামই একদিন সাফল্যের সবচেয়ে শক্ত ভিত্তি হয়ে ওঠে।
Daily Bangladesh Bani বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের দৈনিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে, সমাজের অন্ধকার দিকগুলো উন্মোচন করে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকারের প্রচার করি।