জাকির ফরাজীঃ বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ প্রদান কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে অবসর সুবিধার চেক গ্রহণ করেছেন পিরোজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন।
শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ প্রদানের কার্যক্রম শুরু করা হয়।
এ সময় অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে অবসর সুবিধার চেক গ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দীর্ঘ চার বছর ধরে আটকে থাকা ৭০ হাজার ১১৯ জন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীর বকেয়া অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ পরিশোধ করা হচ্ছে। এ জন্য সরকার এককালীন ২ হাজার ৩৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। দেশের ৬৪ জেলায় iBAS+ সফটওয়্যারের মাধ্যমে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে অর্থ পাঠানো শুরু হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর সুবিধার অর্থ পেতে এখন থেকে আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না। বর্তমান সরকার যতদিন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে, ততদিন অবসরকালীন সুবিধার অর্থ পেতে শিক্ষকদের কোনো ধরনের হয়রানির শিকার হতে হবে না।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে কোনো মধ্যস্বত্বভোগীর হয়রানি ছাড়াই যথাসময়ে অনলাইনের মাধ্যমে শিক্ষকদের প্রাপ্য অর্থ তাঁদের ব্যাংক হিসাবে পৌঁছে দেওয়া হবে।
শিক্ষকদের হয়রানির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষকরা নীতি-নৈতিকতা ও আদর্শের শিক্ষা দিয়ে লাখো শিক্ষার্থীকে গড়ে তোলেন। অথচ তাঁদের নিজেদের প্রাপ্য অর্থ পেতে যদি ঘুষ দিতে হয় কিংবা অফিসে অফিসে ঘুরে ভোগান্তি পোহাতে হয়, সেটি জাতি হিসেবে আমাদের জন্য দুঃখজনক।
অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, বিগত সময়ে নানা অনিয়ম ও আর্থিক সংকটের কারণে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ তহবিলে সংকট তৈরি হয়। ফলে ২০২২ সাল থেকে অবসরপ্রাপ্ত অনেক শিক্ষক তাঁদের প্রাপ্য অর্থ পেতে অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলেন। বর্তমান সরকার বিশেষ ব্যবস্থায় অর্থের সংস্থান করে বকেয়া পরিশোধের উদ্যোগ নিয়েছে।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, শিক্ষা সচিব আব্দুল খালেকসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
Daily Bangladesh Bani বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের দৈনিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে, সমাজের অন্ধকার দিকগুলো উন্মোচন করে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকারের প্রচার করি।