শনিবার, আগস্ট ১৫, ২০২৬

পায়রা বন্দরের আবাসন প্রকল্প থেকে মালামালসহ ৭ ট্রাক আটক

বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু, কলাপাড়া : কলাপাড়ায় পায়রা বন্দরের নির্মাণাধীন আবাসন প্রকল্প এলাকা থেকে বিভিন্ন ধরনের মালামাল নিয়ে যাওয়ার সময় সাতটি ট্রাক আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দিবাগত রাতে উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের হাসনাপাড়া এলাকা থেকে ট্রাকগুলো আটক করা হয়।
আটক ট্রাকগুলোতে ব্যবহারযোগ্য ট্রলি, জেনারেটর, ওয়েট মেশিনসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ছিল। এসব মালামাল নাটোরে নেওয়া হচ্ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে ট্রাকচালকদের কাছে মালামাল পরিবহনের অনুমতিপত্র বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় সন্দেহের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়দের দাবি, গত ১২ আগস্ট থেকে আবাসন প্রকল্প এলাকায় গ্যাস কাটার দিয়ে অন্তত ১২টি ট্রলি কেটে খণ্ড খণ্ড করা হচ্ছিল। পরে বৃহস্পতিবার থেকে সেগুলোসহ অন্যান্য মালামাল ট্রাকে তোলা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে শুক্রবার রাতে পায়রা বন্দরের নিরাপত্তা বিভাগের একটি দল ও জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। পরে ট্রাকগুলো পুলিশ হেফাজতে নেয়।
এক ট্রাকচালক জানান, স্থানীয় সাব্বির ও সুমনের মাধ্যমে মালামাল নাটোরে পৌঁছে দেওয়ার জন্য তারা সেখানে যান। বৃহস্পতিবার থেকে মালামাল লোড করা হয় এবং শুক্রবার রাতে লোড শেষ হওয়ার পর রওনা দেওয়ার সময় পুলিশ তাদের আটক করে।
পরে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মালামালগুলো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ই-ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানির। প্রতিষ্ঠানটি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে এলাকা ছাড়ে বলে দাবি করা হয়েছে।
ই-ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের লজিস্টিক কর্মকর্তা মো. রুপম বলেন, আটক মালামাল তাদের প্রতিষ্ঠানের। মালামাল সরিয়ে নিতে পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের অনুমতিপত্রের জন্য আবেদন করা হয়েছে। অনুমতি পাওয়ার আগেই মালামাল নেওয়ার বিষয়টি ‘মিসটেক’ হয়েছে বলেও তিনি জানান।
প্রতিষ্ঠানটির পায়রা বন্দর কো-অর্ডিনেটর মো. হাসিব বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ট্রলিগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। কোম্পানি এগুলো বিক্রি করেছে। তবে পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়নি। বর্তমানে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান তিনি।
পায়রা বন্দর নিরাপত্তা বিভাগের উপ-পরিচালক লে. কমান্ডার মো. ইরফানুল আল রিফাত জানান, পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মালামাল বোঝাই সাতটি ট্রাক আটক করা হয়েছে। বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান বলেন, রাতে সাত ট্রাক মালামাল নেওয়ার বিষয়টি সন্দেহজনক হওয়ায় এগুলো আটক করা হয়। সংশ্লিষ্টরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে পারলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
কলাপাড়া থানার ওসি নজরুল ইসলাম জানান, পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের অবহিত করার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মালামালসহ ট্রাকগুলো জব্দ করে। কোম্পানির পক্ষ থেকে যথাযথ কাগজপত্র দেখিয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের অনুমতি পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া রাতের আঁধারে বিপুল পরিমাণ মালামাল সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহ দেখা দিয়েছে।

আরো পড়ুন

বরিশালে অস্ত্রধারীদের হামলার মামলায় পলাতক প্রধান আসামি সুমন কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক:  বরিশালে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি সুমন হাওলাদারকে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *