মোঃ মেহেরাব হোসেন রিফাত : সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ, বরিশালের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. শেখ মো. তাজুল ইসলামের অবসরজনিত বিদায় উপলক্ষে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টায় কলেজের লাইব্রেরি ভবনের দ্বিতীয় তলায় শিক্ষক সম্মেলন কক্ষে এ বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হওয়েছে।
সরকারি ব্রজমোহন কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক কাজী জাবের আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবু তাহের মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম, সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আক্তারুজ্জামান খান, বরিশাল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মহিউদ্দিন, সরকারি কর্মচারি কল্যাণ বোর্ড বরিশালের পরিচালক মো আব্বাস উদ্দীনসহ
কলেজের শিক্ষক-কর্মকর্তা কর্মচারী ছাত্রনেতা ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বক্তারা অধ্যাপক ড. শেখ মো. তাজুল ইসলামের কর্মজীবন, তার গবেষণা, শিক্ষা প্রশাসনে তাঁর অবদান ও কলেজের উন্নয়নে তাঁর ভূমিকা নিয়ে বক্তব্য বক্তব্য দেন।
বিদায়ী বক্তব্যে অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. শেখ মোঃ তাজুল ইসলাম বলেন, কলেজের লাইব্রেরি অটোমেশন কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এ কার্যক্রমের শুরুতে কিছুটা পরিশ্রম ও সময় লাগলেও একবার অটোমেশন সম্পন্ন হলে লাইব্রেরি ব্যবস্থাপনা অনেক সহজ ও কার্যকর হবে। বইয়ের হিসাব, কোনো শিক্ষার্থী বই ফেরত দিয়েছে কি না এবং নির্দিষ্ট কোনো বই লাইব্রেরিতে আছে কি না এসব তথ্য মুহূর্তেই জানা সম্ভব হবে। এতে বই হারিয়ে যাওয়ার প্রবণতাও কমবে। তিনি দায়িত্বপ্রাপ্তদের আন্তরিকতার সঙ্গে অটোমেশন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মান ও মর্যাদা নির্ধারণে গবেষণা ও প্রকাশনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিএম কলেজের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও সুনাম ধরে রাখতে গবেষণার পরিধি বাড়ানো, শিক্ষকদের উচ্চতর গবেষণা ও পিএইচডিতে উৎসাহিত করা এবং শিক্ষার্থীদের গবেষণামুখী করে তোলা প্রয়োজন। দীর্ঘ ছয় বছর পর কলেজের জার্নাল প্রকাশিত হয়েছে এটি কলেজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে উল্লেখ করে ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে জার্নাল প্রকাশ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অশ্রুসিক্ত হয়ে আবেগতাড়িত কন্ঠে অধ্যক্ষ বলেন, শিক্ষা প্রশাসনের দায়িত্ব পালনকালে তিনি শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সমান আচরণ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। তবে নানা সীমাবদ্ধতা ও বাস্তবতার কারণে সবসময় সবার প্রত্যাশা শতভাগ পূরণ করা সম্ভব হয়নি। দায়িত্ব পালনকালে তার কোনো আচরণ বা সিদ্ধান্তে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে তিনি আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং সবার কাছে দোয়া কামনা করেন। তিনি বিএম কলেজের উত্তরোত্তর সুনাম ও সাফল্য কামনা করেন। একই সঙ্গে অনুষ্ঠানের আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে সবার সুস্বাস্থ্য, পারিবারিক শান্তি ও কর্মজীবনে সাফল্য কামনা করে।
সভাপতির বক্তব্য বিএম কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর জাবের আহমেদ বলেন, অধ্যক্ষ মহোদয় কখনো সহজে রাগ করতেন না, যা তার অন্যতম ভালো গুণ। তবে শুধু রাগ না করাই নয়, একজন দক্ষ প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য যে ধৈর্য, বিচক্ষণতা ও ব্যবস্থাপনা দক্ষতা প্রয়োজন, তার মধ্যেও এসব গুণ বিদ্যমান ছিল। এসব গুণের সমন্বয়েই তিনি দীর্ঘদিন সফলভাবে কলেজের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি আরও বলেন, বিদায়ী অধ্যক্ষের অবসর পরবর্তী জীবন যেন সুন্দর, সুস্থ ও আনন্দময় হয় এটাই সবার প্রত্যাশা। তার পরিবারের সদস্যদেরও মঙ্গল কামনা করেন। একই সঙ্গে অবসরকে যেন তিনি নিজের থেকে দূরে সরে যাওয়ার কারণ মনে না করেন, সেজন্য বিভিন্ন সময়ে কলেজে এসে সহকর্মীদের সঙ্গে সময় কাটানোর আহ্বান জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দায়িত্ব থেকে অবসর নিলেও তার কর্ম ও অবদানের মাধ্যমে তিনি বিএম কলেজের সঙ্গে সবসময় যুক্ত থাকবেন।
উল্লেখ্য, অধ্যাপক ড. শেখ মো. তাজুল ইসলাম সরকারি ব্রজমোহন কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ১৪ তম বিসিএস ( সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা ছিলেন। তাঁর কর্মজীবনের অবসর উপলক্ষে কলেজের শিক্ষক ও কর্মচারীদের পক্ষ থেকে এ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিএম কলেজে তার শেষ কর্ম দিবস।
Daily Bangladesh Bani বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের দৈনিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে, সমাজের অন্ধকার দিকগুলো উন্মোচন করে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকারের প্রচার করি।