বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১, ২০২৬

দেড় বছর ধরে দু’বেলার বেশি খাবার জোটেনি রিক্সাচালকের ঘরে

বিশেষ প্রতিবেদক :
রিক্সার প্যাডেল ঘুরিয়ে চলতো যে জীবনের চাকা,সে জীবন আজ থমকে গেছে একটি দূর্ঘটনায়। বন্ধ হয়ে গেছে ৫ সদস্যের একটি পরিবারের আয়ের উৎস। দেড় বছর আগে ঘাস কাটতে গিয়ে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি কালাম মিয়ার হাতের একটি আঙ্গুল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে বাকি আঙ্গুলগুলো ও কাজ করার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। পেটের অংশ থেকে চামড়া কেটে নিয়ে হাতে প্রতিস্থাপন করা হলেও এখনো স্বাভাবিক হতে পারেন নি রিক্সা চালক কালাম মিয়া। ডাক্তাররা বলেছেন উন্নত চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন তিনি। তবে,এজন্য প্রয়োজন লাখ লাখ টাকা।

বর্তমানে কালাম মিয়ার বৃদ্ধা মা খাদিজা বেগম অন্যের বাড়িতে ঝি এর কাজ করে কোনোমতে চালিয়ে নিলেও কখনো এক বেলা, কখনো বা না খেয়েই দিন পার করছেন ছোট দুই সন্তান, বৃদ্ধ মা ও স্ত্রী সহ পরিবারের সদস্যরা।
একদিকে চিকিৎসার খরচ অন্যদিকে পরিবারের ভরনপোষণের দুশ্চিন্তায় বর্তমানে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন ভোলার তজুমদ্দিনের গোলকপুর গ্রামের রিক্সা চালক মো: কালাম মিয়া।
৯আগস্ট রবিবার সকালে কান্নাজড়িত কন্ঠে সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিত্তবানদের কাছে সাহায্যের আবেদন জানান তিনি ।

রিক্সাচালক কালাম জানান, দেড় বছর আগে চট্টগ্রামে কাজ করার সময় ঘাস কাটার (ব্রাশ কাটার) মেশিনের ব্লেডে কাটা পড়ে তার ডান হাতের একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং অপর আঙুলগুলোর ও চামড়া ছিড়ে যায়। সাথে সাথে মালিক পক্ষের সহায়তায় চট্টগ্রাম পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসা নেন কালাম। সেখানে পেটের উপরিভাগ থেকে চামড়া নিয়ে হাতের তালু সহ অন্যান্য আঙ্গুলে প্রতিস্থাপন করা হলেও আরো উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন বলে ডাক্তাররা তাকে জানান। তবে এ অবস্থায় চিকিৎসা চালানোর মতো কোনো সামর্থ্য নেই বলে হাউমাউ করে কেঁদে বলেন কালাম।বর্তমানে চিকিৎসাতো দূরের কথা দু বেলা ভাত খেতে পারেন না বলে জানান তার স্ত্রী ইয়াছনুর বেগম।

রিক্সা চালক কালাম মিয়ার বৃদ্ধা মা খাদিজা বেগম বলেন, মানুষের বাড়িতে কাজ করে কখনো আবার রান্নার চাল ধার করে এনে সংসার চলে। সেগুলো দিয়ে কখনো একবেলা কখনো দুবেলার বেশী খেতে পারিনা। তিনি বিত্তবানদের সহায়তা কামনা করেন।

মানবাধিকারকর্মী সাদির হোসেন রাহিম জানান,আমরা রিক্সা চালক কালাম মিয়াকে আমাদের সামর্থ্যনুযায়ী কিছুটা সহায়তা করেছি। তিনি দেশ-বিদেশের সামর্থবান ব্যক্তিদেরকে কালামের পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানান।

এ বিষয়ে তজুমদ্দিন সমাজসেবা কর্মকর্তা মো:ছিদ্দিকুর রহমান জানান, রিক্সাচালক কালাম মিয়ার বিষয়ে কোনো আবেদন পাইনি। পেলে সমাজসেবা অফিস থেকে সহায়তা করা হবে।
কিছুটা খাদ্য সামগ্রী দিয়ে সহায়তা করেছেন বলে জানিয়েছেন তজুমদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো:বনি আমিন।

কালাম মিয়াকে সহায়তা করার জন্য এই নাম্বারে ০১৩১৯-৫৭২২০১ যোগাযোগ করার জন্য বিত্তবানদের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন তার পরিবার।

আরো পড়ুন

বরিশালে নজরুল বর্ষের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক : নজরুল বর্ষ উপলক্ষে বরিশাল সদর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজেনে মাদরাসা ও কলেজ পর্যায়ের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *