মাহতাব হাওলাদার, মহিপুর প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর ও আলিপুরের মাঝখান দিয়ে বয়ে গেছে খাপড়াভাঙ্গা নদী। আজ নদীর ওপর সেতু দাঁড়িয়ে থাকলেও একসময় এ নদী পারাপারের একমাত্র ভরসা ছিল খেয়া নৌকা। সময়ের সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থায় এসেছে বড় পরিবর্তন। হারিয়ে গেছে সেই পুরোনো খেয়াঘাট, মাঝির বৈঠার ছলাৎছল শব্দ আর নৌকায় নদী পার হওয়ার চেনা দৃশ্য।
প্রায় ১৮ বছর আগের, ২০০৮ সালের একটি পুরোনো ছবিতে দেখা যায় মহিপুর বাজার খেয়াঘাটের সেই সময়ের চিত্র। তখন মহিপুর ও আলিপুরের মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগের জন্য কোনো সেতু ছিল না। ফলে প্রতিদিন স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী, জেলে, শ্রমজীবী মানুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে খাপড়াভাঙ্গা নদী পার হতে খেয়া নৌকার ওপর নির্ভর করতে হতো।
ভোর থেকে শুরু হতো খেয়াঘাটের ব্যস্ততা। একদিকে মহিপুর বাজার, অন্যদিকে আলিপুর মৎস্যবন্দর ও আশপাশের জনপদ। মাছ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, কৃষিপণ্যসহ নানা সামগ্রী নিয়ে মানুষ নৌকায় নদী পার হতেন। নদীর দুই পাড়ের মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাই খেয়াঘাটের সম্পর্ক ছিল গভীর।
স্থানীয় প্রবীণদের স্মৃতিতে এখনো সেই দিনের নানা গল্প রয়েছে। বর্ষা ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় নদী উত্তাল হলে নৌকায় পারাপার ছিল ঝুঁকিপূর্ণ। অপেক্ষা করতে হতো ঘাটে। কখনো যাত্রী বেশি হলে নৌকা ছাড়ার জন্য অপেক্ষার পালাও দীর্ঘ হতো। তবু প্রয়োজনের তাগিদে এভাবেই চলেছে মানুষের যাতায়াত।
পরবর্তীতে খাপড়াভাঙ্গা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের মধ্য দিয়ে বদলে যায় মহিপুর-আলিপুরের যোগাযোগব্যবস্থা। সরাসরি সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় মানুষের যাতায়াত সহজ হয়, কমে আসে সময় ও ভোগান্তি। পাশাপাশি আলিপুরের মৎস্যকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য, মহিপুরের বাজার ও আশপাশের এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও আরও গতিশীল হয়ে ওঠে।
তবে উন্নয়নের সঙ্গে হারিয়ে গেছে অতীতের অনেক চেনা দৃশ্য। যে ঘাটে একসময় সারিবদ্ধভাবে নৌকা বাঁধা থাকত, সেখানে এখন সেতুর ওপর দিয়ে ছুটে চলে যানবাহন। মাঝির হাতে বৈঠার বদলে নদীর দুই পাড়কে যুক্ত করেছে আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থা।
তবু পুরোনো ছবির পাতায় সেই সময়টি আজও জীবন্ত। ২০০৮ সালের এই ছবিটি যেন মনে করিয়ে দেয়—একটি জনপদের উন্নয়ন শুধু নতুন রাস্তা, সেতু কিংবা স্থাপনার গল্প নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে মানুষের জীবন, সংগ্রাম, অপেক্ষা ও অসংখ্য স্মৃতি।
কালের বিবর্তনে বদলে গেছে মহিপুর-আলিপুর। কিন্তু খাপড়াভাঙ্গা নদীর বুকে হারিয়ে যাওয়া সেই খেয়াঘাট আজও অনেকের স্মৃতিতে বহমান।
ছবিটি ২০০৮ সালের—মহিপুর বাজার খেয়াঘাটের পুরোনো দৃশ্য।
Daily Bangladesh Bani বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের দৈনিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে, সমাজের অন্ধকার দিকগুলো উন্মোচন করে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকারের প্রচার করি।