খান আব্বাস: বরিশাল নগরীর ১০ নং ওয়ার্ড রাজ্জাক স্মৃতি কলোনিতে (কেডিসি) গৃহবধূ মোসাঃ রিপা বেগমকে যৌতুকের দাবীতে নির্যাতন ও আত্মহত্যার প্ররোচনা দিয়ে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তি ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় বরিশাল টাউন হলের সামনে ৩নং চরবাড়িয়া ইউনিয়নের তালতলী গ্রামবাসী ও সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধনে নিহতের মা কুলসুম বেগম, স্বজন ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন। এ সময় নিহতের স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং অভিযুক্ত আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
মানববন্ধনে স্বজনরা বলেন, প্রায় ১১ মাস আগে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে কেডিসি রাজ্জাক স্মৃতি কলোনির মোঃ বজলু খলিফার ছেলে মোঃ শাহাদাত খলিফার (২২) সাথে রিপা বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী শাহাদাত খলিফা ও তার শাশুড়ি নাজমা বেগম (৪৫) যৌতুকের টাকার জন্য রিপার ওপর অমানুষিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। যৌতুকের টাকা না পেয়ে প্রায়ই তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হতো। সুরতহাল প্রতিবেদনে নিহতের গলায় অর্ধ-চক্রাকার কালো দাগ এবং কাঁধের উভয় পাশে আঘাতের চিহ্ন উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে যৌতুকের অমানুষিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আসামিদের প্ররোচনায় রিপা বেগম রাজ্জাক স্মৃতি কলোনির বসতঘরের চালের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন। পরে তাকে উদ্ধার করে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানায় স্বামী মোঃ শাহাদাত খলিফাকে (২২) প্রধান আসামি এবং শাশুড়ি নাজমা বেগমকে (৪৫) ২ নম্বর আসামি করে একটি আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং- ৫২)। পুলিশ ইতোমধ্যে ১ নম্বর প্রধান আসামি মোঃ শাহাদাত খলিফাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছে। ঘটনার পর থেকে শাশুড়ি নাজমা বেগম পলাতক রয়েছেন।
মানববন্ধনে নিহতের মা কুলসুম বেগম আকুতি জানিয়ে বলেন, আমার অবুঝ মেয়েটাকে ওরা টাকার জন্য নির্যাতন করে মেরে ফেলেছে। আমি আমার সন্তানের নির্মম মৃত্যুর পেছনে দায়ী শাহাদাত ও তার মা নাজমা বেগমের সর্বোচ্চ শাস্তি—ফাঁসি চাই।
কোতোয়ালী মডেল থানার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির জানান, ইতোমধ্যে প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। অন্য আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
Daily Bangladesh Bani বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের দৈনিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে, সমাজের অন্ধকার দিকগুলো উন্মোচন করে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকারের প্রচার করি।