ফাহিম ফিরোজ : মা ইলিশ সংরক্ষণে বরিশাল বিভাগে বুধবার (৭ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে শুরু হচ্ছে ২২ দিনের বিশেষ অভিযান। ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে এ সময়ে নদীতে মাছ ধরা, পরিবহন, মজুত ও বিক্রি নিষিদ্ধ থাকবে। অভিযান সফল করতে প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এবার নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী জেলেদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থার পাশাপাশি আগামী বছরের পোনাদানা চালের তালিকা থেকেও বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ ইলিশ অভয়াশ্রমের মধ্যে রয়েছে মেঘনা, আড়িয়াল খাঁ, কীর্তনখোলা, গজারিয়া, তেঁতুলিয়া ও সন্ধ্যা নদী। এসব নদীতে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে নিয়মিত অভিযান ও টহল পরিচালনা করা হবে। বরিশাল বিভাগের তিন লাখ ৫৮ হাজার জেলেদের মাঝে সহায়তার চাল বিতরণ করা হবে।
মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, বরিশাল জেলায় মোট মাছের উৎপাদন প্রায় ১ লাখ ২ হাজার মেট্রিক টন। এর মধ্যে ইলিশের উৎপাদন প্রায় ৩৭ হাজার মেট্রিক টন। জেলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৮৯ হাজার ১৫৯ জন। নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেদের সহায়তার জন্য ৭৯ হাজার ৮৯০ জনকে ভিজিএফ সহায়তার আওতায় আনা হয়েছে।
অভিযানকে সামনে রেখে মেহেন্দিগঞ্জ, হিজলা, মুলাদী, বরিশাল সদর ও বাকেরগঞ্জ উপজেলায় বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে টাস্কফোর্স সভা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাছ বাজারগুলোতে ব্যানার টানানো ও মাইকিং করা হয়েছে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে ১৮টি সচেতনতামূলক সভা আয়োজন করা হয়েছে। অভিযান পরিচালনার জন্য কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।
দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের রোস্টারিং করা হয়েছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তরের মাধ্যমে লিফলেট বিতরণ চলছে। মৎস্য অধিদপ্তরের ৯টি স্পিডবোট অভিযানে নিয়োজিত থাকবে। এছাড়া উপজেলা পর্যায়ে ওয়াটার স্পিডবোট ও ট্রলার ভাড়া করা হয়েছে। নৌবাহিনীর জাহাজও বরিশালে এসে পৌঁছেছে। অভিযানে মৎস্য অধিদপ্তরের পাশাপাশি জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, এসআরবি, কোস্ট গার্ড, নৌ পুলিশ, নৌবাহিনী ও আনসার-ভিডিপির সদস্যরা সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সংযুক্তি আদেশও জারি করা হয়েছে। এবারের অভিযানে জেলেদের জন্য কঠোর বার্তা দিয়েছে মৎস্য বিভাগ। নিষেধাজ্ঞার সময়ে কোনো জেলে আটক হলে তার নাম আগামী বছরের সহায়তার চালের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে।
বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক মো. কামরুল হাসান বলেন, “এ বছর আমরা অভিযানে একটু পরিবর্তন এনেছি। যেসব জেলে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার সময়ে আটক হবেন, তাদের নাম আগামী বছরের ভিজিএফ এর চালের তালিকা থেকে বাদ যাবে। বুধবার মধ্যরাত থেকেই অভিযান শুরু হবে। ইতিপূর্বে আমরা সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি।”
তিনি বলেন, “উপজেলা টাস্কফোর্স সভা করেছে। জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে সভা হয়েছে। সেখানে বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দিয়েছেন। আমরা আশা করি, বরিশাল বিভাগের জেলেরা আমাদের সহযোগিতা করলে মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধি পাবে।”
মৎস্য বিভাগ বলছে, মা ইলিশ রক্ষায় নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন নদীতে মাছ ধরা বন্ধ রাখা গেলে ইলিশের নির্বিঘ্ন প্রজনন নিশ্চিত হবে। এতে ভবিষ্যতে নদীতে ইলিশের উৎপাদন ও প্রাপ্যতা বাড়ার পাশাপাশি দেশের মৎস্যসম্পদও সমৃদ্ধ হবে।
তবে অভিযান সফল করতে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা মৎস্য বিভাগের তৎপরতাই যথেষ্ট নয়—জেলে, মাছ ব্যবসায়ী, আড়তদার ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও প্রয়োজন। প্রশাসনের প্রত্যাশা, নিজেদের স্বার্থেই জেলেরা নিষেধাজ্ঞা মেনে চলবেন এবং মা ইলিশ রক্ষায় সহযোগিতা করবেন।
Daily Bangladesh Bani বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের দৈনিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে, সমাজের অন্ধকার দিকগুলো উন্মোচন করে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকারের প্রচার করি।