নিজস্ব প্রতিবেদক : জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠা, ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে তরুণদের সচেতনতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বরিশালে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘সমতায় তারুণ্য’ প্রকল্পের দিনব্যাপী ইন্টারঅ্যাকটিভ ক্যাপাসিটি বিল্ডিং সেশন।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে বরিশাল নগরীর লঞ্চঘাট সংলগ্ন হোটেল রিচমার্টের কনফারেন্স রুমে ‘Inclusive Interactive Capacity Building Discussions’ শীর্ষক এ সেশনের আয়োজন করা হয়।
সেশনে জেন্ডার স্টেরিওটাইপস বা লিঙ্গভিত্তিক প্রচলিত ধারণা ও বৈষম্য, ডিজিটাল সেফটি বা অনলাইন নিরাপত্তা, মিডিয়া লিটারেসি বা গণমাধ্যম সচেতনতা এবং অ্যাডভোকেসি বিষয়ে আলোচনা ও অংশগ্রহণমূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এসব বিষয়ে তরুণদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাস্তব জীবনে অর্জিত জ্ঞান প্রয়োগের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রকল্পের সমন্বয়ক, টিমের সদস্য ও বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত থেকে অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। মুক্ত আলোচনা, মতবিনিময় ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে তরুণেরা নিজেদের ভাবনা, পর্যবেক্ষণ এবং সমসাময়িক সামাজিক চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেন।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, জেন্ডারভিত্তিক প্রচলিত ধারণা ও সামাজিক বৈষম্য দূর করতে তরুণদের সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা, অনলাইন হয়রানি প্রতিরোধ, তথ্য যাচাই এবং গণমাধ্যমের বিষয়বস্তু বিশ্লেষণের সক্ষমতা অর্জন বর্তমান সময়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি নিরাপদ, সমতাভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠায় তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য।
কর্মশালায় অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ইমা মাহমুদ শোভা বলেন, “এই সেশনটি আমার জন্য বেশ সময়োপযোগী ও শিক্ষণীয় ছিল। বিশেষ করে জেন্ডার স্টেরিওটাইপস, ডিজিটাল সেফটি, মিডিয়া লিটারেসি ও অ্যাডভোকেসি বিষয়ে আলোচনা আমাদের ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্ববোধের জায়গাটিও নতুনভাবে ভাবতে সহায়তা করেছে। একজন গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে তথ্য যাচাই, ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠায় তরুণদের ভূমিকা সম্পর্কে অর্জিত জ্ঞান ভবিষ্যতে আমার পেশাগত ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আমি মনে করি।”
একই বিভাগের শিক্ষার্থী সাদিয়া পারভীন কণা কর্মশালাটিকে তরুণদের জন্য ইতিবাচক ও সময়োপযোগী উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “এ ধরনের আয়োজন তরুণদের চিন্তাভাবনা, সচেতনতা ও নেতৃত্বের সক্ষমতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে জেন্ডার সমতা, ডিজিটাল নিরাপত্তা ও গণমাধ্যম সচেতনতার মতো সময়োপযোগী বিষয়গুলো নিয়ে সরাসরি আলোচনা এবং মতবিনিময়ের সুযোগ আমাদের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক অভিজ্ঞতা। আমি মনে করি, অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা ব্যক্তিগত জীবনের পাশাপাশি সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতেও সহায়ক হবে।”
আয়োজকরা জানান, তরুণ প্রজন্মকে কেবল সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা নয়, বরং সামাজিক পরিবর্তনের সক্রিয় অংশীদার ও নেতৃত্বদানকারী হিসেবে প্রস্তুত করাই ‘সমতায় তারুণ্য’ প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য। এ ধরনের অংশগ্রহণমূলক উদ্যোগ তরুণদের মধ্যে নেতৃত্ব, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সমতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার চর্চা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।
দিনব্যাপী এ সেশনে বরিশালের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনের মনোনীত তরুণেরা অংশগ্রহণ করেন। উল্লেখ্য, ওয়ার্ল্ড ইউথ আর্মি (World Youth Army)-এর ব্যবস্থাপনায় এবং প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের সহযোগিতায় ‘সমতায় তারুণ্য’ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।
Daily Bangladesh Bani বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের দৈনিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে, সমাজের অন্ধকার দিকগুলো উন্মোচন করে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকারের প্রচার করি।