বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ২৯, ২০২৬

বিদ্যুৎ বিভ্রাটে নাকাল বরিশালবাসী

ফাহিম ফিরোজ, বরিশাল : বরিশাল নগরীতে বিদ্যুৎ বিভ্রাট যেন নিত্যদিনের রুটিনে পরিণত হয়েছে। দিনে–রাতে নির্বিচারে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকায় বাসাবাড়িতে যেমন দুর্ভোগ বাড়ছে, তেমনি ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেমে এসেছে স্থবিরতা।

বৃহস্পতিবার নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কার্যত বন্ধ। কোথাও দোকানের শাটার নামানো, কোথাও আবার মালিক-কর্মচারীরা অলস সময় কাটাচ্ছেন। বেশ কিছু দোকানে তালা ঝুলিয়ে বাইরে ঘোরাঘুরি করতে দেখা গেছে ব্যবসায়ীদের। বাণিজ্যিক অফিসগুলোতেও একই চিত্র—কম্পিউটার, ইন্টারনেট ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি চালু রাখা যাচ্ছে না।

নগরীর একাধিক মোবাইল ব্যবসায়ী জানান, বিদ্যুৎ না থাকলে শোরুম খোলা রেখে লাভ নেই। মোবাইল চার্জ দেওয়া, সফটওয়্যার কাজ বা গ্রাহক সেবা—কিছুই সম্ভব হয় না। মোবাইল ব্যবসায়ী রাজিব বলেন,“বিদ্যুৎ না থাকায় দোকানের তালা দিয়ে বাইরে ঘুরছি। এতে প্রতিদিনই আমাদের বড় অঙ্কের লোকসান হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত বিদ্যুৎ বিভ্রাটের দিকে নজর দেওয়া।”

হোটেল ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম বলেন,“দিন-রাত সমানতালে বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে। হোটেলে ফ্যান, লাইট, ফ্রিজ—সবকিছুই বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল। বিদ্যুৎ না থাকলে কাস্টমার থাকে না, লোকসানের পাশাপাশি নানা সমস্যায় পড়তে হয়।”একটি ব্র্যান্ড শপের অফিস সহকারী ইমন জানান,“জেনারেটর দিয়ে কতক্ষণ আর শোরুম চালানো যায়? তাছাড়া জেনারেটরের খরচও অনেক। বিদ্যুৎ না থাকলে বেচা-বিক্রি খুব কমে যায়। কাস্টমার অন্ধকার শোরুমে ঢুকতে চায় না।”

শুধু ব্যবসায়ী নয়, বিদ্যুৎ বিভ্রাটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষও। শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করতে পারছে না, বাসাবাড়িতে পানি সংকট দেখা দিচ্ছে, মোবাইল চার্জ দেওয়া নিয়েও বিপাকে পড়ছেন অনেকে। গরমে শিশু ও বৃদ্ধদের কষ্ট আরও বেড়েছে।

এ বিষয়ে ওজোপাডিকোর বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্র-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো: মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন,“বিদ্যুতের ঘাটতি থাকায় লোডশেডিং হচ্ছে। তবে বিদ্যুৎ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান আদানির সঙ্গে চুক্তিগত কোনো সমস্যা হয়েছে কিনা—এ বিষয়ে আমি অবগত নই। বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত।”

বরিশালবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যুৎ বিভ্রাট চললেও কার্যকর কোনো সমাধান চোখে পড়ছে না। তারা দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা এবং লোডশেডিংয়ের নির্দিষ্ট সময়সূচি প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। তা না হলে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সার্বিক অর্থনীতি ও জনজীবনে আরও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরো পড়ুন

ইসলামের নামে তারা মিথ্যাচার করছেন: চরমোনাই পীর

অনলাইন ডেস্ক : ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর সৈয়দ মুফতী রেজাউল করীম বলেছেন, …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *