শুক্রবার, মার্চ ২৭, ২০২৬

চরফ্যাশনের বেতুয়া প্রশান্তি পার্কে বিনোদনপ্রেমী পর্যটকদের সরব উপস্থিতি

নুর উল্লাহ আরিফ, চরফ্যাশন 

বেতুয়া প্রশান্তি পার্ক, অবসাদগ্রস্ত হৃদয়ে শান্তি-সুখের বাতায়ন শহরের ইট-পাথরের দেয়ালবন্ধি জীবন। পিচঢালা সড়কের নিদাঘবায়ু, মন-মস্তিষ্ক ঘর্মাক্ত হয়ে যখনি হৃদয় মাজারে একটুখানি স্বস্থির জীবনের ছোয়া পেতে চায়।
অবসাদগ্রস্থ হৃদয়ে যখনি শান্তি-সুখের সমিরণের খোঁজে উনমন থাকে তখনি মনের গহীনে দখিনা হাওয়ার হাতছানি, আবাল,বৃদ্ধ, বণিতা, নারী-পুরুষ, শিশুর ছুটে চলা চরফ্যাশনের মেঘনা নদীর তীরের কোল ঘেষে বেতুয়া প্রশান্তি পার্কে। যেখানে হয় পশ্চিমাকাশে গোধূলি লগনে লালিমা বেলার দখিনা হাওয়ার সাথে কথা। প্রকৃতির নির্মল বাতাশে কাঁচা ঘাসের ছোয়ায় লেপ্টে বসে পলি মাটির স্পর্শে গান বন্ধু তোর লাইগারে। বন্ধু,বান্ধবীর সনে হয়; না বলা গল্প, থাকে সেই পুরনো কাসুন্দি, বাল্যকালের কানামাছি আর গোল্লাছুট খেলার কাহিনী। কলকল ছলছল চির বহমান শব্দে নদীর স্বচ্ছ জলে হবে প্রিয় প্রেয়সির সনে আকাশের ঠিকানায় লেখা হলদে খামে লুকানো রোমান্সকর চিঠি অথবা “মোর প্রিয়া হবে এসো রাণী, দিব খোঁপায় তারার ফুল” কাজী নজরুল ইসলামের কালজয়ী কবিতার মত প্রিয়ার শত জনমের আরাধ্য সেই কবিতা – কাব্যমালা। কবির কবিতায়, কথাশিল্পী বঙ্কিমচন্দ্রের কপালকুণ্ডলা উপন্যাসের চিরন্তন রোমান্টিক উক্তি- পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ? কপালকুণ্ডলার কাহিনীতে ‘মুড়ি-চানাচুরে সাহিত্যপাঠের আসর। বিস্তীর্ণ মাঠে কিশোর-বালকদের ফুটবল, ক্রিকেট, ঘোল্লাছুট, কানামাছি খেলা। দম্পতি জুটির সংসারের মহা ব্যস্ততায় প্রিয় মানুষকে না বলা কথা হাতে হাতে রেখে ভালবাসি তোমাকে।
বিরামহীন ক্লান্তি দূরীকরণে একটুখানি বিশ্রাম ও উৎসব-পুঁজা,পার্বণের সকল পর্বে সবার ছুটে চলা মেঘনাঘাটের কিনারের প্রশান্তি পার্কে। গোধূলি লগনের পরন্ত বিকেলের নির্মল বায়ু মনের অবসাদ ছিন্ন করে। জোৎস্নাস্নাত সন্ধ্যে রাতে তটিনী তখনি ভাবনার জগতে ডাকে। হাতছানি দেয় মেঘনাপাড়ের চলে আসতে কলকল ছল স্বচ্ছ জলে ধুতে অবসাদের হৃদয়-মন। প্রবাহিত জলের রঙ, চাঁদের স্নিগ্ধ আলোয় ভাবুক মনের ভাবনায় ধোলা দেয় কতশত প্রশ্নের। গবেষকের গবেষণায় ফিরে পায় নানা সমিকরণ। অন্ধকার রজনীতে নীরবে-নিথরে বসে স্রষ্টার সৃষ্টিরাজি সম্পর্কে চিন্তার বাতায়ন খুলে দেয়া। উত্তর খুঁজে পেতে এসব সৃষ্টির স্রষ্টা কে? তিনি কে মহান?
কবি-সাহিত্যিক সিরাজ মাহমুদ বলেন, এ প্রশান্তি পার্কে পর্যটক, কবি, সাহিত্যিক, লেখক, গবেষক, চিন্তকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ আসে। তাঁরা এ নদীর কাছে, আকাশের কাছ, বাতাশের কাছে, ঘাসের কাছে, মাটির কাছে, মানুষের কাছে তাঁদের চিন্তার, গবেষণার, সাহিত্যের, লেখার উপাদান খুঁজে পায়। উৎসুক হয়ে ঘরে ফেরে ফেরারি মনের ভাবুক মানুষ। প্রত্যাশার যোজন-বিয়োজনের হিসেব মেলায় এ মাটির বর্ণিল রঙে, লোনা জলের কেলিতে।
নদীবাংলার কবি, বহুমাত্রিক লেখক প্রভাষক রিপন শান বলেন, প্রায়শই বিষণ্ন মনে ছুটে আসি পার্কের নির্মল হাওয়ায় , নীরব নীথর বিকেল কাটাই, সন্ধ্যা তারার সাথে গল্প করি, তীরে বসে নদীর কাছে প্রশ্ন করি, নির্মল বাতাসে কষ্টের নিঃশ্বাস ত্যাগ করি, মাটির কাছে ফরিয়াদ করি, পাখির সাথে গানের সুর ধরি, অবশেষে ফিরি খোশ মেজাজে, লেখার ফ্ল্যাট-প্লট, রূপ-রস, তত্ত্ব-অলংকারের রসদ নিয়ে ।
সিনিয়র সাংবাদিক দৈনিক ইত্তেফাকের চরফ্যাশন উপজেলা প্রতিনিধি মিজানুর রহমান নয়ন বলেন, বেতুয়া প্রশান্তি পার্ক এলাকায় প্রতিদিন বিভিন্ন শ্রেণী পেশার অগণিত নারী পুরুষ ঘুরতে আসেন। জীবনের ব্যস্ততার হাফ ছেড়ে কিছু সময় স্বস্তির সাথে সময় কাটাতে চান তারা। তিনি পর্যটকদের বরাত দিয়ে বলেন, স্থানীয় কিছু টাউট -বাটপার পর্যটকদের অযথা হয়রানি করে অবৈধভাবে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। তিনি পর্যটকদের নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তাদানে প্রশাসনের টহল জোরদারের ব্যাপারে মত দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, চরফ্যাশন উপজেলা শহর থেকে প্রায় ১০ কিমি পূর্বে আয়েশাবাগ এলাকায় বেতুয়া প্রশান্তি পার্ক অবস্থিত। পর্যটকরা প্রতিনিয়ত এখানে আসেন। কেউ পূরো পরিবার নিয়ে। কেউবা একা, কেউ আবার বন্ধু -বান্ধবী নিয়ে। কবি-সাহিত্যিকদেরও আগমন ঘটে এখানে। তাদের কেউ পার্কঘেষা মেঘনা নদীর তীরে বিচ্ছিন্নভাবে বসে জোৎসনাস্নাত রাত কাটান। কেউ বিস্তীর্ণ খোলা আকাশের নিচে নারিকেল-খেজুর তলায় ঘাসের বিছানায় গোধূলিবেলার আবহাওয়ায় বসে গল্প, উপন্যাস, নাটক, ছড়াও কবিতা রচনা করেন। এছাড়াও শিশু-কিশোরদের হৈ-হুল্লোড়ে প্রাণবন্ত সময় কাটে আগন্তুকদের।

আরো পড়ুন

মুলাদীতে নানা আয়োজনে জাতীয় দিবস পালিত

মুলাদী প্রতিনিধি: বরিশালের মুলাদীতে গত ২৬ মার্চ (বৃহস্পতিবার) মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসটি জাতীয় জীবনের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *