মঙ্গলবার, জুন ৯, ২০২৬

বিজয়ী জাতির বিজয়ী নেতা

অ্যাডভোকেট নাজিম উদ্দিন আহমেদ পান্না ||
আমাদের ইতিহাসের যুগোসন্ধিক্ষণের এক ব্যতিক্রমী চরিত্র শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। বাংলাদেশের অমিততেজা বীর যোদ্ধা ও রাষ্ট্রনায়ক শুধু এদেশের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল জ্যোতিস্কই নন, আধিপত্যবাদ বিরোধী সংগ্রামের উদ্বোধকও বটে। ৩০ মে তাঁর ৪৫তম শাহাদত বার্ষিকী।
১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়া জেলার বাগবাড়ী গ্রামের এক ঐতিহ্যবাহী পরিবারে জিয়াউর রহমান জন্মগ্রহণ করেন। জিয়াউর রহমানের পিতা মনসুর রহমান ছিলেন পেশায় কেমিস্ট এবং রত্মগর্ভা মাতা জাহানারা খাতুন ছিলেন একজন বিদূষী নারী ও পাকিস্তান রেডিও’র নজরুল সঙ্গীত শিল্পী।
জিয়াউর রহমানের শিশুকাল অতিবাহিত হয় বগুড়ার গ্রামের বাড়িতে। স্কুল জীবনের প্রথমভাগে তার পিতার কর্মস্থল কলিকাতার হেয়ার স্কুলে তিনি পড়াশুনা করেন। ১৯৪৭ সালের দেশ বিভাগের ফলে মনসুর রহমান চাকুরীর সুবাদে করাচী চলে যান। করাচী একাডেমী স্কুল থেকে ১৯৫২ সালে জিয়াউর রহমান কৃতিত্বের সাথে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে জি.ডি কলেজে ভর্তি হন। ১৯৫৩ সালে জিয়াউর রহমান কমিশন্ড অফিসার হিসাবে পাক সামরিক বাহিনীতে যোগদান করেন এবং ১৯৫৫ সালে সেকেন্ড লেফটেনেন্ট হিসাবে কমিশন পদ লাভ করেন। ১৯৬০ সালে জিয়াউর রহমান ইসকান্দার আলীর কন্যা খালেদা খানমের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। সেই খালেদা খানমই আজকের দেশনেত্রী সদ্য প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া।
শহীদ জিয়াউর রহমানের মধ্যে অনেকগুলো গুণের সমাবেশ ঘটেছিল, যা সচারাচর দেখা যায় না। স্বাধীনতার ঘোষক, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও সেক্টর কমান্ডার, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা, বহুদলীয় গনতন্ত্রের পূণঃ প্রতিষ্ঠাতা, আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি, ইসলামী উম্মাহ্র ঐক্য প্রচেষ্টার অগ্রদূত, সার্কের স্বপ্নদ্রষ্টা, তৃতীয় বিশ্বের অবিসংবাদিত নেতা ও বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর এবং সফল রাষ্ট্রনায়ক। শহীদ জিয়া সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ লেখনী এই স্বল্প পরিসরে সম্ভব নয়। শুধুমাত্র শিরোনামমূলক লেখনী তুলে ধরছি।
শহীদ জিয়ার কর্মক্ষেত্র শুরু হয় ১৯৫৫ সালে পাক সামরিক বাহিনীতে সেকেন্ড লেফটেনেন্ট পদ লাভের মাধ্যমে। ১৯৫৭ সালে তিনি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে বদলী হন। তদানিন্তন পাক-ভারত সামরিক প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে উভয় দেশ সামরিক গোয়েন্দা বিভাগে অপেক্ষাকৃত চৌকষ অফিসারদের নিয়োগ করতেন। জিয়াউর রহমান ১৯৫৯ সাল থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত পাক সামরিক গোয়েন্দা বিভাগে কৃতিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৬ সালে জিয়াউর রহমান কাবুলস্থ  পাকিস্তান সামরিক একাডেমির প্রশিক্ষক নিযুক্ত হন। ১৯৬৯ সালে জিয়াউর রহমান জয়দেবপুরে দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের উপ-অধিনায়ক নিযুক্ত হন। ১৯৭০ সালে চট্টগ্রামে নবগঠিত অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে বদলি করা হয় জিয়াউর রহমানকে।
১৯৭০ সালে পাকিস্তান গণপরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। পাক সেনা আমলাতন্ত্র সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসাবে শেখ মুজিবের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরে তালবাহানা শুরু করে। সামরিক আমলাতন্ত্রের সাথে ষড়যন্ত্রে মিতালী গড়ে তুলে জেড, এ ভূট্টো। ক্ষমতার লড়াইয়ে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ হয় অনিবার্য। শহীদ জিয়া মুক্তিযুুদ্ধের ঘোষণা দেন। আজকেও অনেক জ্ঞানপাপী শহীদ জিয়ার ঘোষণা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় শহীদ জিয়াই স্বাধীনতার ঘোষক। ১৯৭৮ সালের ২৭ ডিসেম্বর জিয়া ভারত সফরকালে ভোজ সভায় ভারতের তদানিন্তন প্রেসিডেন্ট সঞ্জিব রেড্ডী, জিয়াউর রহমান সম্পর্কে বলেন, Your position is already assured in the annals of the history of your country as a brave freedom fighter, who was the first to declare the independence of Bangladesh (তথ্যসূত্র: অধ্যাপক সামসুল হকের Bangladesh in International politics, Page-96 )
ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ১৯৭১ সালের ৬ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষণদানকালে মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে বলেন, The other country has pushed across the border people who did not Vote for their Government, but voted for the regime they wanted. There is no other crime which these people have committed, because the cry for independence arose after Sheikh Mujib was arrested and not before. He himself, so for as I know has not asked for independence even now .
(সূত্রঃ- Bangladesh documents, Information ministry, Govt of India, Vol-11, Page-275 )। এই বক্তব্য থেকে প্রতীয়মান হয় মরহুম শেখ মুজিব স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদান করেননি।
প্রখ্যাত আইনজীবী এবং মুজিব সরকারের খাদ্য প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম বলেন, “ঢাকা থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় পদ্মাতীরের আগারগাঁও গ্রামে বসে আমি এবং তাজউদ্দিন আহমদ জিয়ার স্বাধীনতা ঘোষণা শুনেছিলাম। মেজর জিয়ার আহবান বেসামরিক-সামরিক তথা বাংলার সর্বশ্রেণির মানুষকে উর্জ্জীবিত করে”। (সূত্রঃ স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, ১৫ খন্ড, পৃষ্ঠা- ৯৫)।
এছাড়া সাংবাদিক জহুর হোসেন চৌধূরী ও জাতীয় অধ্যাপক সৈয়দ আলী আহসানের লেখনী ও বক্তব্যে শহীদ জিয়ার স্বাধীনতা ঘোষণার প্রমাণ পাওয়া যায়। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাক হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পন করে ভারতীয় ইস্টার্ন কমান্ডের অধিনায়ক জেনারেল অরোরা-এর নিকট। ফলে ভারত বিশ্ব দরবারে হাজির হয় বাংলাদেশের অভিভাবক হিসাবে। পরবর্তীকালে ভারত পালন করে “ইস্টার্ন কমান্ড” দিবস। ঐদিন নাকি ভারতের পূর্বাঞ্চল বিজয় হয়েছে।
এভাবে আমাদের বিজয় দিবসের ললাটে কালিমা লেপনের চেষ্টা করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ওসমানী সাহেবের আত্মসমর্পন অনুষ্ঠানে অনুপস্থিতি বিজয় দিবসের উজ্জলতা কমিয়ে দেয়। ওসমানী সাহেবের অনুপস্থিতির কারন আজও রহস্যাবৃত। আত্মসমর্পন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ অনুপস্থিত ছিলেন।
আমাদের মুক্তিযুদ্ধে প্রতিবেশী ভারত সাহায্য করেছে। তবে সে সাহায্য নিঃস্বার্থ ছিলনা। পাক হানাদার বাহিনী মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়কের কাছে আত্মসমর্পন করলে, সেটা হতো জাতির জন্য গৌরব জনক। এই গৌরব অর্জনের ব্যর্থতা আমাদের তদানিন্তন রাজনৈতিক নেতৃত্বের। যুদ্ধক্ষেত্রে নিজেদের আধিপত্য মুক্তিযোদ্ধারা বজায় রাখতে পেরেছিল সত্য। কিন্তুু রাজনৈতিক নেতৃত্ব কূটনৈতিক ক্ষেত্রে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দেয়।
মুক্তিযুদ্ধকালে তিনটি সেক্টর সমন্বয়ে গঠিত জেড-ফোর্সের অধিনায়ক হিসাবে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করেন জিয়াউর রহমান। ১৯৭২ সালের জুন মাসে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ডেপুটি চীফ অফ স্টাফ নিযুক্ত হন। ১৯৭২ সালে কর্ণেল পদে এবং ১৯৭৩ সালের মধ্য ভাগে ব্রিগেডিয়ার ও শেষভাগে মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি লাভ করেন।
শহীদ জিয়াউর রহমান বহুমূখী প্রতিভার অধিকারী ও দূরদশী ছিলেন। মহান ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনে তিনি ১৯৭৭ সালে  ‘একুশে পদক’ প্রদান প্রথা প্রবর্তন করেন।
দূরদর্শী জিয়াউর রহমান উপলদ্বি করেছিলেন আজকের শিশুই আগামী দিনের রাষ্ট্রনায়ক। সেই উপলদ্ধি থেকে তিনি ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠা করেন শিশু একাডেমী। ১৯৭৭ সালের ১৫ জুলাই শিশু একাডেমী ঢাকায় স্থায়ীভাবে কাজ শুরু করে। কৃষক বন্ধু জিয়াউর রহমান আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। ফলে কৃষি উৎপাদনে বিপ্লব ঘটে। ১৯৭৪-৭৫ সালে সারাদেশে ধান উৎপন্ন হয় ১ কোটি ১১ লাখ ৯ হাজার মেট্রিক টন। ১৯৮০-৮১ সালে সমগ্র দেশে ধান উৎপন্ন হয় ১ কোটি ৩৬ লাখ ৬২ হাজার মেট্রিক টন। জিয়াউর রহমান বুঝতে পেরেছিলেন একটি নিরক্ষর জাতির পক্ষে উন্নয়ন অসম্ভব। তাই ১৯৮০ সালের ২১ ফেব্র“য়ারি জিয়াউর রহমান জাতীয়ভাবে নিরক্ষরতা দূরীকরণ কর্মসূচি চালু করেন। ১৯৭৬ সালে জিয়াউর রহমান সরকার আইন করে মুক্তিযুদ্ধকালীন ৯ মাসের শিক্ষকদের বকেয়া বেতন প্রদান করেন।  স্বাধীনতার পর দেশের শাসকগোষ্ঠী সীমাহীন দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। শহীদ জিয়া দুর্নীতির অবসান ও ন্যায় ভিত্তিক সমাজ গঠনে চেষ্টা করেন এবং সফল হন।
১৯৭৪-৭৫ সালে দেশে মোট খাদ্য সাহায্য এসেছিল ৫১ কোটি মার্কিন ডলারের উপরে। তখন জনসংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৬০ লাখ। গানিতিক হিসাবে মাথা পিছু বৈদেশিক সাহায্য ছিল প্রায় ৬.৭ মার্কিন ডলার। অন্যদিকে ১৯৮১ সালে দেশে জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৯ কোটি। ৯ কোটি লোকের জন্য খাদ্য সাহায্য এসেছিল ২৫ কোটি মার্কিন ডলারের সমমূল্যের। গাণিতিক হিসাবে মাথা পিছু ২.৮ মার্কিন ডলার। দুর্নীতির কারনে ৭৪ সালে দূর্ভিক্ষে লাখ লাখ আদম সন্তান প্রান হারায়। দুর্নীতিমুক্ত হওয়ায় ১৯৮১ সালে দেশে কোন খাদ্য সংকট ছিল না। এদেশের কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্যে শহীদ জিয়া ‘খাল কাটা’ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন। তার শাসনামলে ১৪০০ খাল খনন হয়। ফলে কৃষিতে বৈপ্লবিক উন্নয়ন সাধিত হয়। মুজিব সরকারের তুলনায় শহীদ জিয়ার সরকার আমলে জি.ডি.পি ৩.৩৩ গুন বৃদ্ধি পেয়েছিল। জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে জিয়াউর রহমান সময় উপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। পল্লীর জনগন যেন বিনা চিসিৎসায় মৃত্যু মুখে পতিত না হয় তার ব্যবস্থা করেন শহীদ জিয়া। তিনি পল্লী চিকিৎসক ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। ফলে মাত্র ১ বছরে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত হন ২৭,০০০ পল্লী চিকিৎসক।
১৯৭৬ সালে গণতন্ত্রের মানসপুত্র জিয়া ‘রাজনৈতিক দল বিধি ১৯৭৬’ জারী করেন। ফলে দেশে বহু রাজনৈতিক দলের পুনরুজ্জীবন ঘটে। ১৯৭৯ সালের ৬ এপ্রিল পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে দেশে বহু দলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন জিয়াউর রহমান। শহীদ জিয়া দীন ইসলামের সাচ্চা খাদেম ছিলেন। ১৯৭৮ সালে দ্বি-বার্ষিক পরিকল্পনার আওতায় ৪টি বিভাগীয় শহরে জিয়া সরকার ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন করে, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকান্ডকে বিভাগীয় পর্যায় পর্যন্ত সম্প্রসারিত করেন। ধর্ম মন্ত্রনালয়ের স্বপ্নদ্রষ্টা শহীদ জিয়া। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘ধর্ম বিভাগ’ নামে একটি পৃথক বিভাগ গঠন করেছিলেন জিয়া সরকার। যাহা পরবর্তীকালে পূর্ণাঙ্গ ধর্ম মন্ত্রণালয়ে রূপান্তরিত হয়। জিয়াউর রহমান সংবিধানে “বিসমিল্লাহির রাহমানীর রাহীম” সংযোজন করেন।
যুব সমাজকে সঠিক দিক নির্দেশনা দেয়ার লক্ষ্যে জিয়া সরকার গঠন করেন যুব কমপ্লেক্স। জাতীয়তাবাদী যুবদল গঠনের মাধ্যমে তিনি যুব সমাজকে সচেতন ও সংগঠিত করেন।
স্বাধীনতার পর আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমাদের তেমন কোন প্রাপ্তি বা অবদান ছিলনা। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিশেষ করে ইসলামী দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে জিয়াউর রহমান সফর করেন সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরান, পাকিস্তান, মালি, সেনেগাল, সিরিয়া, তুরস্ক প্রভৃতি দেশ। মুসলিম দেশগুলোর স্বার্থরক্ষায় জিয়াউর রহমান বলিষ্ঠ ও স্বাধীনচেতা ভূমিকা রাখেন। ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামী বিপ্লবের ফলে তেহরানস্থ মার্কিন দূতাবাসে প্রায় ৪৫০ জন মার্কিন নাগরিক জিম্মি হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইরানের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ নিষেধাজ্ঞা আরোপের উদ্যোগ নেয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট কার্টার ব্যক্তিগত চাপ প্রয়োগ করেও ইরানের বিরুদ্ধে জিয়াউর রহমানের সমর্থন আদায় করতে পারেন নি। ইরান-ইরাকের মধ্যে ভ্রাত্রিঘাতী যুদ্ধ বন্ধে জিয়াউর রহমান বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন। ১৯৮১ সালে ইসলামী সম্মেলন সংস্থা (ওআইসি) এর অন্যতম সহ-সভাপতি পদ লাভ করে বাংলাদেশ। শহীদ জিয়ার সুযোগ্য নেতৃত্বের কারনে সে সময় বাংলাদেশ ১৫ সদস্য বিশিষ্ট জেরুযালেম সমন্বয় কমিটি, ৬ সদস্য বিশিষ্ট জাতিসংঘের জেরুযালেম সমন্বয় কমিটি, ৩ সদস্য বিশিষ্ট আল কুদস কমিটি ও ৩ সদস্য বিশিষ্ট ইরান-ইরাক কমিটির সদস্য মনোনীত হয়।
জিয়াউর রহমান শিল্প সংস্কৃতিক উন্নয়নে সচেষ্ট ছিলেন। ১৯৮১ সালে ঢাকায় এশীয় চারুকলা প্রদর্শনীর  উদ্ধোধন করেন জিয়াউর রহমান। ঢাকা চারুকলা ইনস্টিটিউট ছাত্রদের ছাত্রাবাস এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগ আজও শহীদ জিয়ার অবদানের সাক্ষ্য দেয়। দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর ঐক্যবদ্ধ অবস্থান গ্রহণের প্রয়োজনে তিনি সার্ক গঠনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। দক্ষিণ এশীয় ৭টি দেশ নিয়ে গঠিত সার্ক আজ বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করছে। সার্কের স্বপ্ন দ্রষ্টা ছিলেন জিয়াউর রহমান। জিয়াউর রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ জাতিসংঘের নিরপত্তা পরিষদের সদস্য পদ লাভ করে। নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য বাংলাদেশের আপত্তির কারনেই ১৯৭৯ সালে জাতিসংঘ ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারেনি। ১৯৮০ সালে জিয়াউর রহমান মক্কায় তায়েফে ইসলামী শীর্ষ সম্মেলনে যোগদান করেন।১৯৭৭ সালের ৮ জুন তিনি লন্ডনে কমনওয়েলথ সম্মেলনে যোগদান করেন।
নারী সমাজের কল্যাণ সাধনে জিয়াউর রহমানের অবদান অপরিসীম। নারী সমাজের কল্যাণ সাধনে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল ও মহিলা মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। সময়ের বিবর্তনে তা মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে রূপ লাভ করে। নারী সমাজকে অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী করতে জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠা করেন জাতীয় মহিলা সংস্থা। স্বাধীন বাংলাদেশে জিয়াউর রহমান সর্বপ্রথম মহিলা রাষ্ট্রদূত ও মহিলা অডিটর জেনারেল নিয়োগ করেছিলেন। তিনি মহিলা পুলিশ, আনসার ও ভি.ডি.পি গঠন করেন। কর্মজীবি মহিলাদের বাসস্থান সমস্যার সমাধানে কর্মজীবি মহিলা হোস্টেল প্রতিষ্ঠা করেন। জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংখ্যা ১৫ থেকে ৩০ এ উন্নীত করেন। চাকুরীর ক্ষেত্রে নন-গেজেটেড পদে ১৫% এবং গেজেটেড পদে ১০% কোটা নির্ধারণ করেন। শহীদ জিয়ার মন্ত্রী সভায় মহিলা মন্ত্রীর সংখ্যা ছিল ৬%। জিয়াউর রহমান সরকার ১৯৮০ সালে যৌতুক বিরোধী আইন প্রণয়ন করেন।
১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বি.এন.পি) গঠন করেন। বাংলাদেশের চলমান অগ্রগতিকে থামিয়ে দিতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের ফলে জিয়াউর রহমান ১৯৮১ সনের ৩০ মে কতিপয় বিপথগামী সৈন্যের হাতে শহীদ হন। ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকীতে বিজয়ী জাতির- বিজয়ী নেতার স্মৃতির প্রতি জানাই স্বশ্রদ্ধ সালাম। ##
তথ্যসূত্র: মুক্তবুলি ম্যাগাজিন, ৪০ তম সংখ্যা (মার্চ-এপ্রিল ২০২৬)
অ্যাডভোকেট নাজিম উদ্দিন আহমেদ পান্না
আহবায়ক, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম
বরিশাল জেলা ইউনিট।
পাবলিক প্রসিকিউটর
বরিশাল মহানগর দায়রা জজ আদালত
০১৭১১০০৬৪০৩

আরো পড়ুন

আম-কাঁঠাল-লিচুর প্রাচুর্যে বরিশাল, বাড়ছে অর্থনৈতিক সম্ভাবনা

ফাহিম ফিরোজ : গাছে গাছে ঝুলছে পাকা আম, সুগন্ধ ছড়াচ্ছে কাঁঠাল, বাজারজুড়ে কালো রঙের রসালো …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *