শুক্রবার, অক্টোবর ২, ২০২৬

কলাপাড়ায় ১৭ কমিউনিটি ক্লিনিক ঝুঁকিপূর্ণ, শঙ্কায় রোগী ও স্বাস্থ্যকর্মীরা

মাহতাব হাওলাদার, মহিপুর প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ৩৭টি কমিউনিটি ক্লিনিকের মধ্যে ১৭টি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এসব ক্লিনিকের দেয়াল ও মেঝেতে ফাটল ধরেছে, খসে পড়ছে পলেস্তারা। কোথাও ছাদ চুইয়ে পানি পড়ছে, আবার কোথাও ভেঙে গেছে দরজা-জানালা। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ এসব ভবনেই চিকিৎসাসেবা দিতে ও নিতে হচ্ছে স্বাস্থ্যকর্মী ও রোগীদের।
এর সঙ্গে যোগ হয়েছে প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট। প্রত্যন্ত এলাকা থেকে বিনা মূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধের আশায় আসা অনেক রোগী প্রয়োজনীয় ওষুধ না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, ঝুঁকিপূর্ণ ১৭টি কমিউনিটি ক্লিনিকের মধ্যে টিয়াখালী ইউনিয়নে চারটি, ধানখালীতে তিনটি, নীলগঞ্জে দুটি, ডালবুগঞ্জে দুটি এবং চাকামইয়া, লালুয়া, বালিয়াতলী, মহিপুর, ধূলাসার ও লতাচাপলী ইউনিয়নে একটি করে রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এসব ক্লিনিকের অধিকাংশ ভবন প্রায় ২৬ বছর আগে নির্মিত। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ভবনগুলোর অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। দেয়াল ও মেঝেতে বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। অনেক ক্লিনিকের দরজা-জানালা ভেঙে গেছে। নেই পর্যাপ্ত পানি ও শৌচাগারের ব্যবস্থাও।
বিশেষ করে প্রসূতি নারী, শিশু ও বয়স্ক রোগীদের নিয়ে ক্লিনিকে যেতে ভয় পাচ্ছেন স্বজনেরা। বৃষ্টি হলে কোনো কোনো ক্লিনিকের ছাদ দিয়ে পানি পড়ে। এতে রোগীদের পাশাপাশি চিকিৎসাসামগ্রী ও ওষুধ সংরক্ষণেও সমস্যা হচ্ছে।
অন্ততপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) সাবিহা সুখী বলেন, ক্লিনিকের ছাদের বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়েছে। রোগীদের সেবা দেওয়ার সময় আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়। দ্রুত ভবনটি সংস্কার বা নতুন ভবন নির্মাণ করা প্রয়োজন।
পূর্ব মধুখালী কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি ইশরাত জাহান বলেন, জরাজীর্ণ ভবনে স্বাভাবিকভাবে চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে বর্তমানে পাশের ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে কোনো রকমে চিকিৎসাসেবা চালাতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিকের কর্মীরা আন্তরিকতার সঙ্গে রোগীদের সেবা দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ভবনের অবস্থা এতটাই খারাপ যে সেখানে চিকিৎসাসেবা নেওয়াই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। দ্রুত এসব ভবন ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণ করা দরকার।
ওষুধ সংকটের বিষয়ে স্থানীয়রা বলেন, প্রত্যন্ত এলাকা থেকে মানুষ বিনা মূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ পাওয়ার আশায় কমিউনিটি ক্লিনিকে আসেন। কিন্তু অনেক সময় প্রয়োজনীয় ওষুধ না থাকায় তাঁদের খালি হাতে ফিরতে হয়। পরে বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হয়।
কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তেন মং বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর তালিকা ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। ভবনগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি ওষুধের সংকট দূর করতেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, ঝুঁকিপূর্ণ ১৭টি কমিউনিটি ক্লিনিক দ্রুত সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ করতে হবে। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করা না হলে কলাপাড়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা আরও সংকটে পড়বে।

আরো পড়ুন

বিএম কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. শেখ মো. তাজুল ইসলামকে অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা

মোঃ মেহেরাব হোসেন রিফাত : সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ, বরিশালের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. শেখ মো. …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *