রবিবার, মার্চ ১৫, ২০২৬

বানারীপাড়ার ঐতিহ্যবাহী ধান ও চালের হাটটি বিলুপ্ত প্রায়

শফিকুল ইসলাম বানারীপাড়া প্রতিনিধি।।

বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার ২০০ বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী নদীতে ভাসমান ধান ও চালের হাটটি এখন বিলুপ্তির পথে। সন্ধ্যা নদীর পূর্ব তীরে লঞ্চঘাট সংলগ্ন স্থানে সপ্তাহে শনি, রবি, মঙ্গল ও বুধবার ভাসমান চালের হাট বসে এবং ওই একই দিনগুলোতে নদীর পশ্চিম তীরে দান্ডয়াট গ্রাম সংলগ্ন নদীতে ভাসমান ধানের হাট বসে।

কিন্তু যান্ত্রিক কলকারখানার ভিড়ে এ হাটটি এখন তার অস্তিত্ব হারানোর পথে। বিগত ১৫বছর আগেও সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পশ্চিম তীরের ধানের হাটটিতে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের যে হাক ডাক শোনা যেত তা এখন তেমন শোনা যায় না।

কিন্তু সপ্তাহে যে চার দিন উক্ত হাঁটটি বসার কথা মাঝেমধ্যে তা একেবারে মলিন থাকে। আমন ও বোরো সিজন ছাড়া সপ্তাহে শনি ও মঙ্গলবার এ হাটে সামান্য দুই একটি ধানের ট্রলার পরিলক্ষিত হলেও রবি ও বুধবার এ হাটটি ক্রেতা-বিক্রেতার অভাবে অচল হয়ে পড়ে।

বানারীপাড়ার চাল সারা দক্ষিণবঙ্গে একসময়ে সুখ্যাতি অর্জন করেছিল। এহাটের চাল একসময় যাত্রীবাহী লঞ্চে বহন করে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হতো। কুঠিয়ালি ব্যবসা করে এ অঞ্চলের অনেক মানুষ স্বাবলম্বী হওয়া সহ দু’মুঠো খেয়ে পড়ে ভালো জীবন যাপন করত। এ ব্যবসায় লাভ কম হওয়ায় এখন অনেকেই অন্য পেশা গ্রহণ করেছে। কারণ আধুনিক কলকারখানার সাথে তাদের এ সনাতন পদ্ধতি আর খাপ খাচ্ছে না।

উপজেলার ব্রাহ্মণ কাঠি, বসুরহাট, দত্তপাড়া, নাজিরপুর, উত্তরকুল, করফাকর, নলশ্রী, মহিষাপোতা, কাজলা হার, জম্বুদীপে এখনো গুটিকয়েক কুঠিয়ালদের দেখা পাওয়া যায়। এখানকার একজন কুঠিয়ালের সাথে আলাপচারিতায় জানা যায় এখন আর আগের মতন এ ব্যবসার জনপ্রিয়তা নেই।

বর্তমান যারা কুঠিয়ালি ব্যবসা করেন দু’মুঠো খেয়ে পড়ে বাঁচতেই অসুবিধা হয়। এছাড়াও তারা জানান যদি এই অঞ্চলে কয়েকটি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর রাইস মিল স্থাপন করা হতো তাহলে এখানকার ব্যবসায়ীরা কিছুটা হলেও উপকৃত হবে।তবে এ ব্যবসায় কিছু সিন্ডিকেট ও পরিলক্ষিত হয়।

অধিক মুনাফা লাভের আশায় অনেকে ধান ও চাল হাটে বিক্রি না করে তারা অন্য উপায়ে বিভিন্নভাবে ক্রয় ও বিক্রয়ের পথ অবলম্বন করে। তাদের এ পন্থা হাটটি বিলীনের পথে নিয়ে যাচ্ছে। এ হাটের বালাম চাল সারা দেশ ব্যাপি বিখ্যাত ছিল কিন্তু এখন আর তা পাওয়া যায় না। এখানকার অনেক মানুষ আড়ৎদারি ও কয়ালি (স্থানীয় শব্দ) করে জীবিকা নির্বাহ করতো।

কুঠিয়াল আড়ৎদার, কয়ালদের মধ্য থেকে অনেকেই এখন ভিন্ন পেশা গ্রহণ করেছে এবং যারা এ পেশায় নিয়োজিত আছে তারাও আর্থিক অসচ্ছলতায় ভুগছে। এসব পেশাজীবীর লোকজন তাদের প্রিয় ধান ও চালের হাটটি যাতে আবারও সচল হয়ে ওঠে সে ব্যাপারে সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের প্রতি সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

আরো পড়ুন

ধারণক্ষমতার পাঁচগুন যানবাহনে অচল বরিশাল নগরী

ফাহিম ফিরোজ ॥ পবিত্র ঈদ উল ফিতর যত ঘনিয়ে আসছে, ততই অচল হয়ে পড়ছে বরিশাল …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *