মঙ্গলবার, আগস্ট ১৮, ২০২৬

সিডরে পন্টুন ভেসে যাওয়ার ১৮ বছরেও চালু হয়নি ফেরি চলাচল, ভোগান্তি

পিরোজপুর প্রতিনিধি : পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার কলারণ ও সন্ন্যাসী ফেরী প্রায় দুই দশক ধরে বন্ধ থাকায় বলেশ্বর নদী পারাপারে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দ্রুত ফেরী চালুর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

জানা গেছে, পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলা ও বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলা সীমানায় বলেশ্বর নদীর ওপর কলারণ–সন্ন্যাসী ফেরীটি ২০০৬ সালের ৪ আগস্ট চালু করা হয়। কিন্তু ২০০৭ সালের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় সিডর আঘাতে কলারণ প্রান্তের ফেরীঘাটের পন্টুন স্রোতে ভেসে যায়। পরে ওই ফেরীটি পুনঃস্থাপনের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

স্থানীয়রা জানান, ফেরীটি চালু থাকলে ঢাকা থেকে পিরোজপুর জেলা হয়ে সরাসরি শরণখোলা ও সুন্দরবন অঞ্চলে যাতায়াত সহজ হতো। এতে এ অঞ্চলের পর্যটন শিল্প সমৃদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি সুন্দরবনের বনজ সম্পদ ও বঙ্গোপসাগর উপকূলের মাছ দ্রুত দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিবহন করা সম্ভব হতো।

বর্তমানে ইঞ্জিন চালিত নৌকার মাধ্যমে এই নদীটি পারাপার হতে হয়। এতে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় নৌকা বন্ধ থাকলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দুই পাড়ের যাত্রীদের বসে থাকতে হয়। এতে সময়ের পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যহৃত হচ্ছে।

পথচারী মিজান, রহিম ও হালিমা জানান, ইঞ্জিন চালিত নৌকায় নদী পার হতে প্রায় আধা ঘণ্টা সময় লাগে এবং খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। ফেরী চালু হলে সময় ও ঝুঁকি—দুটিই কমবে।

চন্ডিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মসিউর রহমান বলেন, “ফেরীটি চালু হলে মানুষের চলাচল সহজ হবে, বাজার ব্যবস্থা সচল হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিও উপকৃত হবে।”

এ বিষয়ে পিরোজপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তানভীর আহম্মেদ জানান, ইন্দুরকানী থেকে কলারণ পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণের জন্য শিগগির টেন্ডার আহ্বান করা হবে। পাশাপাশি বাগেরহাট প্রান্তের রাস্তা প্রশস্তের কাজ শেষ হলেই দুই প্রান্তের পন্টুন পুনঃস্থাপন করে ফেরী চালু করা হবে।

আরো পড়ুন

মেহেন্দিগঞ্জের বিভিন্ন জায়গায় আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী (রহ.)-এর ৩য় শাহাদাত বার্ষিকী পালিত

এইচ এম আনিছুর রহমান, মেহেন্দিগঞ্জ:  মেহেন্দিগঞ্জ  আব্দুল্লাহপুর থানা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *