নাহিদ বিন রফিক
তেঁতুলের নাম শুনতেই জিভে জল আসে, বিশেষ করে নারীদের। তেঁতুল পছন্দ করে না এমন মেয়ে খুঁজে পাওয়া মুশকিল। তাহলে ছেলেরা এ তালিকায় নেই? তাও বলি কী করে! খেতে বসলে দেখা যায়, কোনো কোনো পুরুষ নারীকেও হার মানায়। আসলেই স্বাদে-গন্ধে এই ফল সবার অনন্য আকর্ষণ। দক্ষিণ আফ্রিকায় মূল্যবান খাবারের মধ্যে তেঁতুলের স্থান অন্যতম। অথচ কেউ কেউ মনে করেন, তেঁতুল খেলে রক্ত পানি হয়ে যায়; সে সাথে বুদ্ধিও কমে। এজন্য বাচ্চাদের তেঁতুল খেতে বারণ করা হয়। এগুলো নিছক কুসংস্কার। বাস্তবে ঠিক উল্টো। তেঁতুল রক্ত পরিষ্কার করে। মস্তিষ্কে চিন্তা করার ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। কাঁচা তেঁতুল খেতে টক। তবে পাকা ফল টক-মিষ্টির এক ভিন্ন স্বাদ। তেঁতুল খাবারে রুচি বাড়ায়।
এ জন্য মাংসের রোস্ট, পোলাও, খিচুড়িতে ব্যবহার হয়। তেঁতুলের টক, ভর্তা, ডাল অনেকের প্রিয়। এছাড়া তৈরি করা যায় আচার, সস, জ্যাম, চাটনিসহ আরো নানান খাবার। তেঁতুলে আছে চোখ ধাঁধানো পুষ্টি। পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, এর প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁচা ফলে (আহারোপযোগী) ক্যালসিয়াম আছে ২৪ মিলিগ্রাম এবং পাকা ফলে রয়েছে ১ শ’ ৭০ মিলিগ্রাম।
আয়রণের পরিমাণ কাঁচাফলে ১ মিলিগ্রাম এবং পাকা ফলে আছে ১০ দশমিক ৯ মিলিগ্রাম করে। এছাড়া প্রতি ১ শ’ গ্রাম পাকা ফলের অন্যান্য পুষ্টি উপাদানগুলোর মধ্যে ৩ দশমিক ১ গ্রাম আমিষ, ৬৪ দশমিক ৪ গ্রাম শর্করা, ০ দশমিক ১ গ্রাম চর্বি, ০ দশমিক ০৭ মিলিগ্রাম ভিটামিন বি২, ৩ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি, ০ দশমিক ১ মিলিগ্রাম ভিটামিন ই, ১ শ’ ১৩ মিলিগ্রাম ফসফরাস, ২৮ মিলিগ্রাম সোডিয়াম, ৬ শ’ ২৮ মিলিগ্রাম পটাসিয়াম, ৯২ মিলিগ্রাম ম্যাগনেসিয়াম, ১ দশমিক ৩ মিলিগ্রাম সিলিনিয়াম, ০ দশমিক ১২ মিলিগ্রাম দস্তা, ০ দশমিক ৮৬ মিলিগ্রাম তামা এবং খাদ্যশক্তি আছে ২ শ’ ৮৩ কিলোক্যালরি। তেঁতুলের ফল, বিচি, পাতা, ফুল, গাছের বাকল মহামূল্যবান। শুধু খাবার নয়, রূপচর্চা হিসেবেও এর ব্যবহার রয়েছে। ত্বকের কালচেভাব দূরীকরণে তেঁতুলের কার্যকারীতা বেশ। এছাড়া গাছের গুঁড়ি মাংস কাটার ক্ষেত্রে ব্যবহার হয়। তাই আসুন, বসতবাড়িতে তেঁতুলগাছ রোপণ করি। মানুষের দেহের পুষ্টি ও ভেষজ উপাদান সরবরাহে করি অংশগ্রহণ।
Daily Bangladesh Bani বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের দৈনিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে, সমাজের অন্ধকার দিকগুলো উন্মোচন করে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকারের প্রচার করি।